বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬

নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনার বক্তব্যের অনুমতি নিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের তীব্র প্রতিবাদ


ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত ও হত্যা মামলার পলাতক আসামি শেখ হাসিনাকে জনসম্মুখে বক্তব্য দেওয়ার অনুমতি দেওয়ায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ। এ ঘটনাকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও আন্তর্জাতিক নীতিমালার পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেছে সরকার।

২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ৬:১১ অপরাহ্ণ 

নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনার বক্তব্যের অনুমতি নিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের তীব্র প্রতিবাদ
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

ভারতের নয়াদিল্লিতে মানবতাবিরোধী অপরাধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক দোষী সাব্যস্ত পলাতক আসামি শেখ হাসিনাকে জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। রবিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, গত ২৩ জানুয়ারি নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত একটি জনসভায় শেখ হাসিনার বক্তব্যে বাংলাদেশ সরকারকে অপসারণের প্রকাশ্য আহ্বান জানানো হয় এবং আসন্ন সাধারণ নির্বাচন ব্যাহত করতে তার দলীয় অনুসারী ও সাধারণ জনগণকে সহিংস ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে উসকানি দেওয়া হয়। এ ধরনের বক্তব্যে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণ বিস্মিত ও হতবাক।

বাংলাদেশ সরকার গভীর দুঃখ প্রকাশ করে জানায়, ভারত বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তরের বাধ্যবাধকতা পূরণ না করে বরং তাকে ভারতের মাটি ব্যবহার করে উস্কানিমূলক ও ঘৃণ্য বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দিয়েছে। এতে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ, শান্তি ও জাতীয় নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়েছে।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ভারতের রাজধানীতে এ ধরনের অনুষ্ঠানের অনুমতি দেওয়া এবং গণহত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত একজন ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্কের স্বীকৃত নীতিমালার পরিপন্থী। বিশেষ করে সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা, অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং সু-প্রতিবেশীসুলভ আচরণের নীতি এতে লঙ্ঘিত হয়েছে। এটি বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের প্রতি স্পষ্ট অবমাননার শামিল।

বাংলাদেশ মনে করে, ভারতের এ ধরনের পদক্ষেপ বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ভবিষ্যতের জন্য একটি বিপজ্জনক নজির সৃষ্টি করেছে, যা ভবিষ্যতে নির্বাচিত সরকারগুলোর মধ্যে পারস্পরিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নের প্রক্রিয়াকে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের এই প্রকাশ্য ও নির্লজ্জ উস্কানি আবারও প্রমাণ করে কেন অন্তর্বর্তী সরকার দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে বাধ্য হয়েছিল। নির্বাচন-পূর্ব সময় ও নির্বাচনের দিন যদি কোনো ধরনের সহিংসতা বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়, তার সম্পূর্ণ দায়ভার আওয়ামী লীগকেই বহন করতে হবে। একই সঙ্গে এ ধরনের দুষ্ট ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করতে বাংলাদেশ সরকার প্রয়োজনীয় ও যথাযথ সব ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।