মায়ের প্রতি চরম অবহেলা: সেই যুগ্ম সচিব ছেলেকে ওএসডি
৬ জুন ২০২৬, ৯:৩২ অপরাহ্ণ
জামায়াতে ইসলামীর একক আধিপত্য, সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার নীতি এবং আসন ভাগাভাগিতে অবমূল্যায়নের অভিযোগে তাদের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনি জোটে আবারও বড় ধরনের ভাঙন দেখা দিয়েছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পর এবার জোট ত্যাগের ঘোষণা দিয়েছে অন্যতম শরিক দল বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন।
দলটির শীর্ষ নেতাদের অভিযোগ, জোটের মূল চালিকাশক্তি জামায়াতে ইসলামী শুরু থেকেই একক আধিপত্য বজায় রেখে আসছিল। লিয়াজোঁ কমিটিতে কোনো আলোচনা না করেই নিজেদের সিদ্ধান্ত জোটের বাকি শরিকদের ওপর জোরপূর্বক চাপিয়ে দেওয়া হতো। এমনকি দলটির শীর্ষ নেতারা অভিযোগ করেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন অন্তত ১০টি আসনে ছাড় চেয়েছিল, কিন্তু জামায়াত তাদের একটি আসনও ছাড় দেয়নি।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের নায়েবে আমির মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী গণমাধ্যমকে বলেন, "প্রথমত এটি ছিল একটি নির্বাচনি সমঝোতা। বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমাদের সঙ্গে আসন সমঝোতা না হওয়ায় আমরা আলাদাভাবেই নির্বাচন করেছি। মূলত তখন থেকেই আমরা একপ্রকার জোটে নেই এবং নির্বাচনের সময় থেকেই আমরা ১১ দলের কোনো বৈঠক বা প্রোগ্রামে অংশ নিচ্ছি না।"
দলের মহাসচিব ইউসুফ সাদিক হক্কানী শনিবার সন্ধ্যায় জানান, "আমাদের এই জোট মূলত নির্বাচনি সমঝোতা ছিল, যা এখন নির্বাচন শেষ হওয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। তা ছাড়া আসনের দাবি নিয়েও আমাদের দাবি মূল্যায়ন করা হয়নি। নির্বাচনের পর আমরা সারাদেশের দায়িত্বশীলদের নিয়ে একটি বৈঠক করেছি। আগামী ১০ তারিখে আমাদের মজলিসে আমেলার মিটিং আছে, সেই মিটিংয়েই জোটে থাকা না থাকার আনুষ্ঠানিক বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে।"
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দেশে একটি ইসলামি অনুশাসন ও রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ইসলামপন্থী দলগুলোর মধ্যে এই ঐক্যের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। শুরুতে ‘আন্দোলনরত আট দল’ ব্যানারে যাত্রা শুরু করলেও পরবর্তী সময়ে ‘ওয়ান বক্স পলিসি’ বা ‘এক বাক্স নীতি’র আওতায় আসন সমঝোতার মাধ্যমে এটি ১১ দলীয় নির্বাচনি জোটে রূপ নেয়।
তবে জোট গঠনের পর থেকেই বড় দলগুলোর আসন বরাদ্দের দ্বন্দ্ব ও মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে আসন সমঝোতা না হওয়ায় চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারি প্রথমে চরমোনাই পীরের দল ‘ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’ জোট থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নেয়। পরবর্তীতে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বাংলাদেশ লেবার পার্টিসহ কয়েকটি দল যুক্ত হয়ে ১১ দলের কাঠামো ধরে রাখলেও খেলাফত আন্দোলনের এই প্রস্থানে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ইসলামপন্থী ঐক্যে আবারও বড় ধাক্কা লাগল।