স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা, আইনে সংশোধনের উদ্যোগ ইসির
১৩ জুলাই ২০২৬, ৭:২৮ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজনীতি থেকে আনুষ্ঠানিক বিদায় নিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) বর্তমান সহ-সভাপতি (ভিপি) এবং সংগঠনটির কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক সাদিক কায়েম।
সোমবার (১৩ জুলাই) শিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ২০২৬ সালের ষাণ্মাসিক (ছয় মাস মেয়াদি) সাংগঠনিক সেটআপের মাধ্যমে সাদিক কায়েমকে এই আনুষ্ঠানিক বিদায় দেওয়া হয় বলে সংগঠন সূত্রে জানা গেছে।
ছাত্রশিবির থেকে বিদায় নেওয়ার পর সাদিক কায়েমের পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিয়ে জোর গুঞ্জন চলছে। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেবেন।
এর আগে গত ১ মে রাজধানীর কাকরাইলে আয়োজিত জামায়াতের এক দায়িত্বশীল সম্মেলনে সাদিক কায়েমকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ছাত্রশিবিরের দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পদে থেকে কোনো রাজনৈতিক দলের হয়ে নির্বাচন করার সুযোগ না থাকায়, মূলত এই ঘোষণার পরই তার শিবিরের রাজনীতি থেকে বিদায়ের বিষয়টি নিশ্চিত হয়।
২০১৩ সালে ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন সাদিক কায়েম। ২০১৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার আগে চট্টগ্রামে তিনি তৎকালীন আওয়ামী সরকারবিরোধী আন্দোলনেও সক্রিয় ছিলেন। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে মাঠপর্যায়ে সমন্বয় ও সম্মুখসারির সংগঠকদের আশ্রয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ‘সালমান’ ছদ্মনামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি। পরবর্তীতে একই বছরের ২১ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবিরের সভাপতি হিসেবে তিনি প্রথম প্রকাশ্যে আসেন।
সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনের ধারাবাহিকতায় ২০২৫-২০২৬ মেয়াদে তিনি কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এছাড়া ডাকসু নির্বাচনে অংশ নিয়ে তিনি সহ-সভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হন।
সাদিক কায়েম খাগড়াছড়ির বায়তুশ শরফ জব্বারিয়া আদর্শ মাদ্রাসা থেকে ২০১৪ সালে দাখিল এবং ২০১৬ সালে বায়তুশ শরফ আদর্শ কামিল মাদ্রাসা থেকে আলিম পাস করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।
রাজনীতির পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন অরাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের সাথে যুক্ত ছিলেন। তিনি ‘স্টুডেন্টস এগেইনস্ট ভায়োলেন্স এভরিহোয়্যার’ (সেইভ) এর পরামর্শদাতা কর্মী, ‘বাংলাদেশ ইয়ুথ ইনিশিয়েটিভ’-এর জেনারেল সেক্রেটারি এবং ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র সংসদ’-এর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে তিনি ‘হিল সোসাইটি’ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।