শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬

সাবেক মেয়র তাপস দম্পতির আয়কর নথি জব্দের নির্দেশ


ক্ষমতার অপব্যবহার, জ্ঞাত আয়ের বাইরে সম্পদ অর্জন ও সন্দেহজনক অর্থ লেনদেনের অভিযোগে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস ও তার স্ত্রী আফরিন তাপসের সব আয়কর নথি জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালত।

১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১:২২ পূর্বাহ্ণ 

সাবেক মেয়র তাপস দম্পতির আয়কর নথি জব্দের নির্দেশ
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের করা মামলার তদন্তের স্বার্থে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস এবং তার স্ত্রী আফরিন তাপসের সব আয়কর নথি জব্দের আদেশ দিয়েছেন আদালত। রোববার ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ সাব্বির ফয়েজের আদালত দুদকের দুই পৃথক আবেদনে এই আদেশ দেন।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন জানান, দুদকের সহকারী পরিচালক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. ফেরদৌস রহমান তাপস দম্পতির আয়কর নথি জব্দের আবেদন করেন। আদালত উভয় আবেদনই মঞ্জুর করেন।

মেয়র তাপসের বিরুদ্ধে দুদকের আবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকা দক্ষিণের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি জ্ঞাত আয়ের উৎসের বাইরে ৭৩ কোটি ১৯ লাখ ৬৭ হাজার টাকার সম্পদের মালিক হন। তাপসের নামে থাকা ২৭টি ব্যাংক হিসাবে ৫৩৯ কোটি ১৬ লাখ ২৫ হাজার ২৭৮ টাকা এবং ৫ লাখ ১৭ হাজার ৫২৭ মার্কিন ডলারের সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। দুদক বলছে, এসব কার্যক্রম দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

তদন্তকারী সংস্থার দাবি, মামলার স্বার্থে তাপসের নামে থাকা সব আয়কর নথির স্থায়ী অংশ, বিবিধ অংশ ও সংশ্লিষ্ট রেকর্ড জব্দ করে পর্যালোচনা করা জরুরি।

অন্যদিকে, আফরিন তাপসের বিরুদ্ধে করা আবেদনে বলা হয়, পরস্পর যোগসাজশে তিনি জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ৬ কোটি ৪০ লাখ ৮৯ হাজার টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন। তার ৯টি ব্যাংক হিসাবে ৭০ কোটি ৮৯ লাখ ৯৩ হাজার ৬৬৯ টাকা এবং ৩ লাখ ৯৫ হাজার ৯৬৩ মার্কিন ডলারের সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।

দুদকের ভাষ্য, এসব লেনদেন মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় অপরাধের শামিল। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আফরিন তাপসের সকল আয়কর নথি জব্দ করে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন বলে আবেদন করা হয়।

আদালতের আদেশের ফলে অভিযোগ তদন্তে নতুন গতি সৃষ্টির পাশাপাশি তাপস দম্পতির আর্থিক লেনদেনের সব তথ্য এখন দুদকের পর্যালোচনার আওতায় আসবে।