জুলাই গণঅভ্যুত্থান আইন ২০২৬ পাস: অংশগ্রহণকারীদের সুরক্ষা ও মামলা প্রত্যাহারের বিধান
২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ৮:৫০ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশে সাধারণত রাজনৈতিক দল বা জোট একক শীর্ষ নেতাকে সামনে রেখে নির্বাচনী প্রচারণা চালায়। তবে এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে গঠিত ১০ দলীয় জোটে এমন কোনো নেতা সামনে রাখা হয়নি।
এ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা ২২ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়েছে। প্রার্থী প্রায় দুই হাজার হলেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি ও তার জোট এবং জামায়াতসহ ১০ দলীয় জোটের মধ্যে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটে তারেক রহমানের নেতৃত্বে সব কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। বিপরীতে, জামায়াতের ১০ দলীয় জোট একক নেতৃত্বের পরিবর্তে যৌথ নেতৃত্বে এগোচ্ছে।
জোটে অন্তর্ভুক্ত ১০ দলের মধ্যে ইসলামপন্থি পাঁচটি দল- জামায়াত, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম পার্টি ও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন। বাকিরা ধর্মনিরপেক্ষ দল- জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), আমার বাংলাদেশ (এবি পার্টি), জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি।
নির্বাচনের আগে প্রশ্ন ছিল, জোট জয়ী হলে প্রধানমন্ত্রী কে হবেন বা বিরোধী দলীয় নেতা কে হবেন। জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব জানিয়েছেন, জোটে এ ধরনের বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। সাধারণত বেশি আসন জিতেছে এমন দলকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।
জামায়াত একাই ৩০০ আসনের মধ্যে ২১৫ আসনে নির্বাচন করছে। অন্যান্য দলগুলো তুলনায় ছোট আসন নিয়েছে। তাই জোটের মূল নেতৃত্ব স্বাভাবিকভাবেই জামায়াতের হাতে রয়েছে। তবে জামায়াত এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত ঘোষণা দিতে চায় না। কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, নির্বাচনের পর আসন বিতরণ ও সমঝোতার ভিত্তিতে শীর্ষ নেতৃত্ব নির্ধারণ হবে।
জোটের আদর্শিক ভিত্তি নিয়েও অস্পষ্টতা আছে। ইসলামপন্থি ও ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলো একসঙ্গে যুক্ত হলেও আদর্শিক মিলের স্পষ্ট রূপরেখা নেই। এনসিপির আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, জোটের মিল হয়েছে মূলত ‘জুলাই স্পিরিট’, বিচারপ্রয়োজন, আধিপত্যবিরোধী অবস্থান ও সংস্কারের লক্ষ্য নিয়ে। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হকও একই বক্তব্য দিয়েছেন।
শরিয়া আইন বা ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও জোটের নেতারা এখন তা প্রয়োগের তাগিদ দিচ্ছেন না। তারা বলছেন, ক্ষমতায় গেলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ধাপে ধাপে এসব বিষয় বাস্তবায়ন হবে। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “বিদ্যমান আইন রয়েছে, সংবিধান ও সংসদীয় প্রক্রিয়া মেনে জনকল্যাণমুখী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। এটি ইসলামও অনুমোদন করে।” ফলে, জামায়াতের নেতৃত্বে ১০ দলীয় এই জোটে একক নেতা বা প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী অনিশ্চিত। একই সঙ্গে জোটের আদর্শিক ভিত্তি ও কার্যনির্বাহী কাঠামোও নির্বাচনী মাঠে তাদের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।