সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬

বিজয় দিবস হোক নতুন করে জাতীয় ঐক্যের দিন: প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস


এবারের মহান বিজয় দিবসকে জাতীয় জীবনে নতুনভাবে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার দিন হিসেবে পালনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে জনগণের প্রকৃত ক্ষমতায়ন ও গণতান্ত্রিক উত্তরণের নবযাত্রা যেকোনো মূল্যে রক্ষার শপথ নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।

১৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ৯:৫৯ অপরাহ্ণ 

বিজয় দিবস হোক নতুন করে জাতীয় ঐক্যের দিন: প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, এবারের বিজয় দিবস হোক জাতীয় জীবনে নতুনভাবে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার দিন। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে জনগণের প্রকৃত ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়া এবং গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথে যে নবযাত্রা সূচিত হয়েছে, তা রক্ষার শপথ নেওয়ার দিন হোক ১৬ ডিসেম্বর।

মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) দেওয়া ওই বাণীতে তিনি বলেন, “১৬ ডিসেম্বর আমাদের মহান বিজয় দিবস। বাংলাদেশের ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় গৌরবময় দিন। ১৯৭১ সালে নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ শেষে এই দিনে আমরা কাঙ্ক্ষিত বিজয়ের স্বাদ পেয়েছি। অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষা আর লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে আমাদের স্বাধীন জাতিসত্তা এবং লাল-সবুজের পতাকা।”

এ উপলক্ষে দেশে ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসরত সব বাংলাদেশিকে বিজয় দিবসের উষ্ণ শুভেচ্ছা জানান প্রধান উপদেষ্টা।

প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “মহান মুক্তিযুদ্ধসহ স্বাধীনতার জন্য দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামে যারা আত্মত্যাগ করেছেন, সেই সব বীর শহীদদের আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি। তাঁদের আত্মদান আমাদের অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর প্রেরণা জোগায় এবং সংকটের মুহূর্তে মুক্তির পথ দেখায়।”তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের মধ্য দিয়ে যে স্বাধীনতার নতুন সূর্য উদিত হয়েছিল, তা বিগত বছরগুলোতে বারবার স্বৈরাচার ও অপশাসনের কারণে ম্লান হয়েছে। তবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশ আবারও একটি বৈষম্যহীন, দুর্নীতি ও স্বৈরাচারমুক্ত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সুযোগ পেয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি উন্নত ও সুশাসিত বাংলাদেশের শক্ত ভিত গড়ে তুলতে বিস্তৃত সংস্কার কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। দেশের আপামর জনগণের সম্মিলিত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে সেই সংস্কার কার্যক্রম আজ সফল পরিসমাপ্তির পথে এগিয়ে যাচ্ছে।তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এর ফলে আগামীর বাংলাদেশে স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা সমূলে উৎপাটিত হবে, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা পাবে এবং রাষ্ট্রের সব ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির পাশাপাশি নিশ্চিত হবে জনমুখী ও টেকসই উন্নয়ন।

বাণীর শেষাংশে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আসুন, বহু কষ্টে অর্জিত স্বাধীনতাকে পূর্ণতা দিতে নতুন প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, সুখী ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলি। ধর্ম-বর্ণ-গোষ্ঠী নির্বিশেষে সবাই মিলে হাতে হাত রেখে শান্তি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাই।”