বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬

সচিবালয়মুখী মিছিল পল্টনে আটকে দিল পুলিশ, অর্থমন্ত্রীকে স্মারকলিপি


ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান মো. খুরশিদ আলমের পদত্যাগসহ ৬ দফা দাবিতে 'সচেতন গ্রাহক ফোরাম'-এর সচিবালয়মুখী বিক্ষোভ মিছিল পল্টন মোড়ে আটকে দিয়েছে পুলিশ। তবে ফোরামের একটি প্রতিনিধিদলকে অর্থমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি জমা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। মিছিল বাধাগ্রস্ত হওয়ার পর আন্দোলনকারীরা পল্টন থেকে গুলিস্তানমুখী প্রধান সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।

১০ জুন ২০২৬, ২:১৫ অপরাহ্ণ 

সচিবালয়মুখী মিছিল পল্টনে আটকে দিল পুলিশ, অর্থমন্ত্রীকে স্মারকলিপি
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান মো. খুরশিদ আলমের পদত্যাগসহ ৬ দফা দাবিতে অর্থ মন্ত্রণালয় ঘেরাও ও সচিবালয় অভিমুখে যাত্রা করে 'সচেতন গ্রাহক ফোরাম'। আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় মতিঝিলে অবস্থিত ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে থেকে মিছিলটি শুরু হয়।

দুপুর ১২টার দিকে মিছিলটি পল্টন মোড়ে পৌঁছালে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তা আটকে দেয়। মিছিল সামনে এগোতে না পারায় আন্দোলনকারী গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডাররা পল্টন থেকে গুলিস্তানমুখী প্রধান সড়কে বসে পড়েন এবং সেখানে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকেন।

পরবর্তীতে বিশৃঙ্খলা এড়াতে ফোরামের একটি প্রতিনিধিদলকে সচিবালয়ে প্রবেশের অনুমতি দেয় পুলিশ। ফোরামের আহ্বায়ক ও মুখপাত্র অধ্যাপক নুর উন-নবীর নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি অর্থ মন্ত্রণালয়ে গিয়ে অর্থমন্ত্রী বরাবর একটি লিখিত স্মারকলিপি জমা দেয়।

জানা গেছে, অর্থমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে দেওয়া ওই স্মারকলিপিতে মোট ৬টি দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। দাবিগুলোর মধ্যে প্রধানতম হলো- ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান চেয়ারম্যান মো. খুরশিদ আলমের অবিলম্বে পদত্যাগ। এছাড়া অন্য দাবিগুলো হলো: ব্যাংক রেজুলেশনের ১৮ (ক) ধারা বাতিল করা, ব্যাংক খাতের লুটেরাদের পাচারকৃত অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা, আর্থিক খাতের লুটেরাদের দ্রুত বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করা,  এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে থাকা ব্যাংকের শেয়ারগুলো প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া।

উল্লেখ্য, গত এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান চেয়ারম্যান মো. খুরশিদ আলমের পদত্যাগ দাবিতে ধারাবাহিক আন্দোলন চালিয়ে আসছে সচেতন গ্রাহক ফোরাম। গত ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের তৎকালীন চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করার পর বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলমকে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর থেকেই ব্যাংকটির সাধারণ গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডারদের একাংশের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়, যা পরবর্তীতে এই আন্দোলনে রূপ নেয়।