মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬

বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ ও স্মার্ট করার নির্দেশ বিদ্যুৎমন্ত্রীর


পারমাণবিক বিদ্যুতের যুগে প্রবেশের প্রস্তুতি হিসেবে দেশের বিদ্যমান বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ, স্মার্ট ও যুগোপযোগী করার নির্দেশ দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। সোমবার (৮ জুন) সকালে বিদ্যুৎ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সঞ্চালন ও বিতরণ সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও কোম্পানিগুলোর চেয়ারম্যান এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের এক পর্যালোচনা সভায় তিনি এই নির্দেশনা দেন।
বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ ও স্মার্ট করার নির্দেশ বিদ্যুৎমন্ত্রীর
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

বিদ্যুৎ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এই বিশেষ পর্যালোচনা সভায় দেশের বিদ্যমান বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ সক্ষমতা, বর্তমান ব্যবস্থার দুর্বলতা, স্মার্ট গ্রিড প্রযুক্তি স্থাপন, পারমাণবিক বিদ্যুৎ সংযুক্তির চ্যালেঞ্জ এবং এর জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সভায় মন্ত্রী উল্লেখ করেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হওয়ার আগেই এর সম্ভাব্য সব ধরনের প্রযুক্তিগত ও কাঠামোগত চ্যালেঞ্জগুলো চিহ্নিত করতে হবে এবং তা মোকাবিলার জন্য পূর্বপ্রস্তুতি নিতে হবে। বিদ্যুৎব্যবস্থাকে নিরাপদ ও আধুনিকায়নের লক্ষ্যে দেশে একটি ‘ন্যাশনাল রিসার্চ সেন্টার’ প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

ইকবাল হাসান মাহমুদ জানান, পারমাণবিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বিদ্যুৎ সঞ্চালন কোম্পানি পিজিসিবিকে প্রয়োজনীয় গবেষণা ও কনসেপ্ট পেপার তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সময়ে নিউক্লিয়ার বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বিদেশি পরামর্শকদের মাধ্যমে ওই প্রস্তাবনা মূল্যায়ন করা হবে এবং তাদের সুপারিশ অনুযায়ী সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন,"বাংলাদেশ ইতোমধ্যে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন থেকে কয়লা ও সৌরবিদ্যুতের দিকে অগ্রসর হয়েছে এবং এখন দেশ পারমাণবিক বিদ্যুতের দিকে এগোচ্ছে। তবে এই নতুন যুগে সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি; তা না হলে পুরো বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিপর্যয়ের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।"

এ ধরনের ঝুঁকি এড়াতে একটি কার্যকর ও আধুনিক স্মার্ট গ্রিড ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী পিজিসিবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা ও ওয়ার্কিং পেপার প্রস্তুত করতে নির্দেশ দেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎ বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও এটি অত্যন্ত উচ্চপ্রযুক্তিনির্ভর ও জটিল ব্যবস্থা। তাই জনগণের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে হবে।

এদিকে বিদ্যুৎ খাতের অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পগুলো ইতোমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে সংবাদে জানান মন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, এসব অপ্রয়োজনীয় ও অপচয়মূলক প্রকল্পের সঙ্গে যারা জড়িত ছিলেন, তাদের চিহ্নিত করে তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উক্ত পর্যালোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম, পিজিসিবির প্রধান প্রকৌশলী মো. মঞ্জুরুল ইসলাম এবং বিদ্যুৎ সচিব মিরানা মাহরুখসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।