জুলাই গণঅভ্যুত্থান আইন ২০২৬ পাস: অংশগ্রহণকারীদের সুরক্ষা ও মামলা প্রত্যাহারের বিধান
১২ জুলাই ২০২৫, ১:২১ অপরাহ্ণ
ঢাকার মিটফোর্ড এলাকায় ব্যবসায়ী সোহাগকে যুবদল নেতার হাতে পাথর দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করার ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি)। নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে শুক্রবার (১১ জুলাই) রাতে বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
রাত ১০টায় শেরে বাংলা হল থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ মিছিলটি বিজয় ২৪ হল হয়ে পুরো ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে। মিছিল শেষে শিক্ষার্থীরা ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কে প্রায় ১০ মিনিট সড়ক অবস্থান করে স্লোগান দেন।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, প্রকাশ্যে একজন মানুষের এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড মেনে নেওয়া যায় না। তারা অবিলম্বে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। বক্তারা বলেন, এভাবে বারবার বর্বর ঘটনা ঘটলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা থাকবে না। তাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
এসময় শিক্ষার্থীরা 'যুবদল মানুষ মারে, তারেক রহমান কি করে?', 'সন্ত্রাসীদের ঠিকানা এই বাংলায় হবে না', 'জুলাইয়ের হাতিয়ার গর্জে উঠো আরেকবার', 'আমার ভাই মরলো কেন?', 'মিটফোর্ডএ খুন কেন? তারেক রহমান জবাব চাই' সহ নানা স্লোগান দেন।
রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী হাসিবুল হাসান বলেন, এই মৃত্যু উপত্যকা, জল্লাদের উল্লাসমঞ্চ কিংবা বিস্তীর্ণ শ্মশান – এগুলো আমাদের বাংলাদেশ নয়। মিডফোর্ডে ব্যবসায়ী সোহাগকে যেভাবে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে, তা আওয়ামী শাসনামল ছাড়া অন্য কোনো সময়ে দেখা যায়নি। চাঁদার জন্য যারা আমাদের ভাইকে হত্যা করেছে, বাংলার মাটিতে তাদের শেষ দেখে ছাড়বো। আমরা ছাত্রসমাজ ফ্যাসিবাদকে যেমন উৎখাত করেছি, তার চেয়ে ভয়ংকরভাবে এই চাঁদাবাজদেরও উৎখাত করবো, ইনশাআল্লাহ।
আইন বিভাগের শিক্ষার্থী শহিদুল ইসলাম শাহেদ বলেন, ৫ আগস্টের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরা যে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটিয়েছিলাম, আজ আবার তার নতুন রূপ দেখতে পাচ্ছি। আমরা এই দেশে কোনো ফ্যাসিবাদ চাই না। প্রয়োজনে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আবারও প্রতিরোধ গড়বে।
বিক্ষোভের শেষ পর্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সঞ্চালনা করেন আইন বিভাগের শিক্ষার্থী সিরাজুল ইসলাম। বক্তব্য দেন রসায়ন বিভাগের রকিব মাহমুদ, হাসিবুল হোসেন, দর্শন বিভাগের ইফতেখার সায়েম, নাসিম বিল্লাহ, আইন বিভাগের শহিদুল ইসলাম শাহেদ, মৃত্তিকা ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের মাসুম বিল্লাহসহ আরও অনেকে।