নিরাপদ সড়কে বড় বাধা নিবন্ধনহীন ড্রাইভিং স্কুল
১৭ মে ২০২৬, ৮:৪৪ অপরাহ্ণ
শিক্ষার্থী ও খেলোয়াড়দের অধিকার ক্ষুণ্ন এবং দায়িত্বে চরম অবহেলার অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শারীরিক শিক্ষা দপ্তরের উপ-পরিচালক সেলিনা বেগম।
আজ রবিবার (১৭ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মোঃ হুমায়ুন কবীর স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশের মাধ্যমে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া ববি কেন্দ্রীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড় ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা-২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারা এবং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় আইনের ৪৪(৬) ধারা মোতাবেক, সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো। তবে নিয়ম অনুযায়ী এই সময়ে তিনি খোরাকীভাতা পাবেন।
সাময়িক বরখাস্তে সন্তুষ্ট নন ফুটবলার ও শিক্ষার্থীরা; তাদের দাবি-বিতর্কিত এই কর্মকর্তাকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করতে হবে।বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল দলের অধিনায়ক মোঃ রুবেল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
"উনার চরম অসহযোগিতা ও উদাসীনতার কারণে আমরা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েও মাঠে নামতে পারিনি। আমাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে সিল দেওয়া হয়নি, বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা পর্যন্ত সরবরাহ করা হয়নি। এমনকি তিনি নিজে দলের সাথে যাননি এবং কোনো দায়িত্বশীল প্রতিনিধিও পাঠাননি।"রুবেল আরও অভিযোগ করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে তাদের ম্যাচ থাকার কথা থাকলেও শারীরিক শিক্ষা দপ্তর থেকে উল্টো বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়া হয়। ঢাবি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয় যে ববি দলে বহিরাগত ও বিকেএসপির খেলোয়াড় রয়েছে। দীর্ঘদিনের কঠোর পরিশ্রমের পর এমন নোংরা রাজনীতির শিকার হয়ে তারা খেলতে না পেরে ফিরে আসতে বাধ্য হন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সেলিনা বেগমের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও বিতর্কের তালিকা বেশ দীর্ঘ। ইতিপূর্বে লালমনিরহাটের এক সাংস্কৃতিক কর্মকর্তাকে কার্যালয়ে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে তার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। ওই ঘটনায় সাইবার নিরাপত্তা আইনে দায়ের করা মামলায় গত ২৯ জানুয়ারি আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠিয়েছিলেন। পরবর্তীতে তিনি জামিনে মুক্ত হন।
এছাড়াও তার বিরুদ্ধে মাদক সেবন, ব্ল্যাকমেইলিং, একাধিক অনৈতিক সম্পর্ক এবং বিভিন্ন অডিও ক্লিপ ফাঁসের অভিযোগ রয়েছে। ২০১৭ সালে মির্জাগঞ্জ থানায় তার বিরুদ্ধে মারধর, শ্লীলতাহানি ও চুরির অভিযোগে একটি মামলা (মামলা নং- ১/১৭) দায়ের করেছিলেন কমলচন্দ্র হাওলাদার নামে এক ব্যক্তি।
এর আগেও বিভিন্ন সময় মামলা ও অভিযোগের কারণে আলোচনায় ছিলেন সেলিনা বেগম। ২০১৮ সালে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন রেজিস্ট্রার মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ এনেছিলেন তিনি, যার প্রেক্ষিতে ওই রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। তার করা অন্য একটি মামলায় ইতিপূর্বে বরিশালের একজন সাবেক পুলিশ সুপারকেও চাকরিচ্যুত হতে হয়েছিল।
খেলোয়াড়দের স্বপ্নভঙ্গের এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। তদন্ত কমিটির রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে প্রশাসন পরবর্তী চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেবে বলে ক্যাম্পাস সূত্রে জানা গেছে।