শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬

ইরান ইস্যুতে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি


ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরাইল সামরিক অভিযানের জেরে মধ্যপ্রাচ্যে তেল উৎপাদন ও রপ্তানি ব্যাহত হওয়ায় বুধবার (৪ মার্চ) বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ১ ডলারেরও বেশি বেড়েছে। ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই- উভয় সূচকেই উল্লেখযোগ্য উল্লম্ফন দেখা গেছে।

৪ মার্চ ২০২৬, ১১:১৯ পূর্বাহ্ণ 

ইরান ইস্যুতে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক অভিযানের প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর জেরে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে গেছে। বার্তাসংস্থা রয়টার্স-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ১১ ডলার বা ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮২ দশমিক ৫৩ ডলারে পৌঁছেছে, যা ২০২৫ সালের জানুয়ারির পর সর্বোচ্চ।

একই সময়ে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৭৯ সেন্ট বা ১ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৫ দশমিক ৩৭ ডলারে।

মঙ্গলবার ইসরাইলি ও মার্কিন বাহিনী ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। এতে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। উল্লেখ্য, বৈশ্বিক তেল উৎপাদনের উল্লেখযোগ্য অংশই মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর, ফলে এই অঞ্চলের যে কোনো অস্থিরতা সরাসরি বিশ্ববাজারে প্রভাব ফেলে।

কর্মকর্তারা রয়টার্সকে জানান, পেট্রোলিয়াম রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎপাদক ইরাক উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে। মজুত সংকট ও রপ্তানি রুট বন্ধ থাকায় দৈনিক প্রায় ১ দশমিক ৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেল উৎপাদন কমেছে, যা দেশটির মোট উৎপাদনের প্রায় অর্ধেক। রপ্তানি স্বাভাবিক না হলে কয়েক দিনের মধ্যে উৎপাদন হ্রাস ৩ মিলিয়ন ব্যারেলে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী ট্যাংকারগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বে সরবরাহ হওয়া মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এবং বিপুল পরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবাহিত হয়। পাঁচটি জাহাজে হামলার পর টানা চতুর্থ দিনের মতো প্রণালিটি কার্যত বন্ধ রয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, প্রয়োজনে মার্কিন নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী তেল ট্যাঙ্কারগুলোকে এসকর্ট করতে পারে। তিনি মার্কিন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অর্থ করপোরেশনকে উপসাগরীয় অঞ্চলে সামুদ্রিক বাণিজ্যের জন্য রাজনৈতিক ঝুঁকি বীমা ও আর্থিক গ্যারান্টি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক এসকর্ট ও বীমা সুবিধা বিশ্ববাজারে আস্থা ফেরাতে কতটা কার্যকর হবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

এ অবস্থায় বিভিন্ন দেশ ও কোম্পানি বিকল্প রুট ও জ্বালানি উৎস খুঁজছে। ভারত ও ইন্দোনেশিয়া নতুন সরবরাহ উৎসের সন্ধান করছে। অন্যদিকে, কিছু চীনা শোধনাগার রক্ষণাবেক্ষণের কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে।

সৌদি আরবের তেল জায়ান্ট সৌদি আরামকো হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে লোহিত সাগর হয়ে কিছু রপ্তানি রুট পরিবর্তনের চেষ্টা করছে। অন্যদিকে আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউট-এর তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত ৫ দশমিক ৬ মিলিয়ন ব্যারেল বেড়েছে, যা বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস ২ দশমিক ৩ মিলিয়ন ব্যারেলের তুলনায় অনেক বেশি। সরকারি পরিসংখ্যান বুধবার প্রকাশ হওয়ার কথা রয়েছে।