জুলাই গণঅভ্যুত্থান আইন ২০২৬ পাস: অংশগ্রহণকারীদের সুরক্ষা ও মামলা প্রত্যাহারের বিধান
৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:১৮ অপরাহ্ণ
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, “আপনারা নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যাবেন। কথা দিচ্ছি—আমাদের বিরুদ্ধেও ভোট দিলে আপনাদের ভোটাধিকার রক্ষায় আমরা জীবন দেবো ইনশাআল্লাহ। কেউ যদি ভোটকেন্দ্র দখল ও ভোট চুরির চেষ্টা করে, তার পরিণতি ফ্যাসিস্টদের মতোই হবে।”
শুক্রবার দুপুরে সাভারে ঢাকা-১৯ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী দিলশানা পারুলের পক্ষে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের মানুষ ৫ আগস্টের পর নতুন কোনো জালিমের আবির্ভাব দেখতে চায় না। যারা নতুন করে চাঁদাবাজি, জমি দখল ও মানুষ নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত, পাথর মেরে হত্যা করছে- তারা আইনত জালিম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
তিনি আরও বলেন, সারা বাংলাদেশে ১১ দলীয় জোটের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। মানুষ পরিবর্তন, সংস্কার ও ইনসাফ চায়। আবার যদি ঋণখেলাপি, ভূমিদস্যু কিংবা বিদেশি নাগরিকত্বধারীরা সংসদে যায়, তাহলে দেশের কোনো পরিবর্তন হবে না। “এই জন্যই তো মানুষ রক্ত দেয়নি, জীবন দেয়নি। এবারের নির্বাচন পরিবর্তনের নির্বাচন, সংস্কারের নির্বাচন,”- বলেন তিনি।
বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, দেশের নিয়ন্ত্রণ থাকবে ঢাকায় এবং এই নিয়ন্ত্রণ করবে বাংলাদেশের জনগণ। দিল্লির তাঁবেদারি যারা অতীতে করেছে বা নতুন করে করতে চায়, তাদের রাজনীতি বাংলাদেশে আর কখনও প্রতিষ্ঠিত হবে না। “আজাদি ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আমরা একবিন্দুও ছাড় দেব না,”- জোর দেন তিনি।
অন্তর্বর্তী সরকারকে উদ্দেশ্য করে নাহিদ ইসলাম বলেন, শহীদ শরীফ ওসমান হাদির বিচার নিশ্চিত করতে না পারা এবং হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করতে ব্যর্থতা ইতিহাসে অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম ব্যর্থতা হিসেবে লেখা থাকবে।
একটি রাজনৈতিক দলের নেতার পরিকল্পনা প্রসঙ্গে সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, দেশের বাস্তবতা না জেনে, দীর্ঘদিন বিদেশে থেকে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন কেউ বাংলাদেশকে নিয়ে কী পরিকল্পনা করেছে তা মানুষ বুঝে গেছে। “এমন কোনো প্ল্যান বাস্তবায়ন হতে দেব না, যা বাংলাদেশকে আবারও পিছিয়ে নেবে, ফ্যাসিস্ট পুনর্বাসন করবে কিংবা আধিপত্যবাদী রাজনীতি তৈরি করবে,”- বলেন তিনি।
জনসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-১৯ আসনের ১১ দলীয় জোটের এমপি প্রার্থী দিলশানা পারুল, ঢাকা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা মো. আফজাল হোসাইন, রাজনীতি বিষয়ক সম্পাদক হাসান মাহবুব মাস্টারসহ স্থানীয় জামায়াত ও এনসিপির নেতাকর্মীরা।