বাংলাদেশ ক্রিকেটে নতুন উদ্যোগ: অধিনায়কদের জন্য ‘ক্যাপ্টেন্স কার্ড’ চালু
২৬ মার্চ ২০২৬, ৯:৪৪ পূর্বাহ্ণ
আজ ২৬ মার্চ, ৫৬তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। বাঙালি জাতির ইতিহাসে এটি এক গৌরবময় ও তাৎপর্যপূর্ণ দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সংগ্রামের সূচনা ঘটে এবং শুরু হয় বাঙালির সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ।
আজ থেকে ৫৫ বছর আগে, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর কবল থেকে দেশকে মুক্ত করার আহ্বানে সেদিন ঝাঁপিয়ে পড়েছিল বাংলার দামাল ছেলেরা। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ, অসীম ত্যাগ ও বীরত্বগাঁথার মধ্য দিয়ে ১৬ ডিসেম্বর অর্জিত হয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব। বিশ্ব মানচিত্রে আত্মপ্রকাশ ঘটে স্বাধীন রাষ্ট্র বাংলাদেশ।
দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণীতে দেশবাসীকে স্বাধীনতার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তারা মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারাকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান।
গোটা জাতি আজ গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছে স্বাধীনতার জন্য জীবন উৎসর্গকারী শহীদদের। পাশাপাশি সম্মান জানাচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং স্বাধীনতার সংগ্রামে নেতৃত্বদানকারী মহান নেতাদের।
ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় দেখা যায়, পলাশীর প্রান্তরে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হওয়ার পর দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পথ পাড়ি দিয়ে বাঙালি জাতি স্বাধীনতার চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছায়। ১৯৪৮ সালে বাংলা ভাষার দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়ে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৫৬ সালের সংবিধান প্রণয়ন আন্দোলন, ১৯৫৮ সালের মার্শাল ল বিরোধী আন্দোলন, ১৯৬২ সালের শিক্ষা কমিশনবিরোধী আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন, ১৯৬৮ সালের আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন এবং ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ- এসব ঘটনার মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতি স্বাধীনতার জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়ে ওঠে।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী গণহত্যা শুরু করলে মধ্যরাতে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাসভবনে গ্রেপ্তারের আগমুহূর্তে দেওয়া সেই ঘোষণায় তিনি দেশবাসীকে শত্রুসেনাদের বিরুদ্ধে শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়াই করার আহ্বান জানান। তৎকালীন ইপিআরের ওয়্যারলেসের মাধ্যমে সেই বার্তা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে।পরে ২৭ মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন। এতে স্বাধীনতাকামী মানুষের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা ও সাহসের সঞ্চার হয়।
১৭ এপ্রিল কুষ্টিয়ার মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় (বর্তমান মুজিবনগর) স্বাধীন বাংলার অস্থায়ী সরকার শপথ গ্রহণ করে। বঙ্গবন্ধুকে রাষ্ট্রপতি, সৈয়দ নজরুল ইসলামকে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি এবং তাজউদ্দীন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী করে গঠিত ওই সরকারের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত ও পরিচালিত হয়।
নয় মাসব্যাপী মুক্তিযুদ্ধে একদিকে যেমন বাঙালির বীরত্বগাঁথা রচিত হয়েছে, অন্যদিকে পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা, নির্যাতন, ধর্ষণ ও লুটতরাজের নির্মম অধ্যায়ও ইতিহাসে লিপিবদ্ধ হয়েছে। অবশেষে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর ঢাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের মাধ্যমে বিজয় অর্জিত হয় এবং স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্ম হয়।
দিনের কর্মসূচি
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আজ প্রত্যুষে রাজধানীর তেজগাঁও পুরোনো বিমানবন্দর এলাকায় ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু হয়েছে। সারাদেশেও একইভাবে তোপধ্বনি দেওয়া হচ্ছে।
সূর্যোদয়ের সময় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এরপর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীর নেতৃত্বে বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। বিদেশি কূটনীতিকসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা সেখানে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন।
আজ সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন শহরের প্রধান সড়ক জাতীয় পতাকা ও অন্যান্য পতাকায় সজ্জিত করা হয়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি ও জ্বালানি সংকটের কারণে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে এবার আলোকসজ্জা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
সকাল ৯টায় জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে কুচকাওয়াজ ও ফ্লাই পাস্ট অনুষ্ঠিত হবে। রাষ্ট্রপতি এতে সালাম গ্রহণ করবেন এবং অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী, তিন বাহিনীর প্রধান, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ দেশি-বিদেশি অতিথিরা উপস্থিত থাকবেন।
বাদ জোহর দেশের সব মসজিদে এবং সুবিধাজনক সময়ে মন্দির, গির্জা, প্যাগোডাসহ অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনায় বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া হাসপাতাল, জেলখানা, শিশু পরিবার, বৃদ্ধাশ্রমসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিশেষ খাবার পরিবেশন করা হবে। শিশু পার্ক ও জাদুঘরগুলোও আজ বিনা টিকিটে দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।
সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে সশস্ত্র বাহিনীর অর্কেস্ট্রা দল এবং ব্যান্ড ওয়ারফেজের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে। একইসঙ্গে দেশের বিভিন্ন বন্দরে নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের জাহাজ জনসাধারণের পরিদর্শনের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।এদিকে দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলও পৃথক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। বিএনপি দুইদিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন, দলীয় কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন এবং আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। জামায়াতে ইসলামিও জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে।
স্বাধীনতার এই মহান দিনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে দেশকে আরও উন্নত, সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করছে গোটা জাতি।