বুধবার, ৬ মে, ২০২৬

রাতে বাড়ছে মেট্রোরেলের সময়সীমা, ট্রেনের ব্যবধানও কমানোর পরিকল্পনা


ঢাকায় যাত্রীসেবা আরও উন্নত করতে মেট্রোরেলের চলাচলের সময় বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। নতুন পরিকল্পনায় রাতে ট্রেন চলবে আরও ৪০-৫০ মিনিট বেশি, পাশাপাশি কমানো হবে ট্রেনের ব্যবধান।
রাতে বাড়ছে মেট্রোরেলের সময়সীমা, ট্রেনের ব্যবধানও কমানোর পরিকল্পনা
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

রাজধানী ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনতে মেট্রোরেলের সময়সূচি সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাতের চলাচলের সময়সীমা ৪০ থেকে ৫০ মিনিট পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে নিরীক্ষা ও পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পরীক্ষামূলক চলাচল শেষ হলে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন সময়সূচি ঘোষণা করা হবে।

ডিএমটিসিএল সূত্রে জানা গেছে, চলতি মে মাসের শেষদিকে অথবা ঈদুল আজহা-র পর নতুন সময়সূচি কার্যকর হতে পারে। নতুন পরিকল্পনার আওতায় ট্রেনের ফ্রিকোয়েন্সিও বাড়ানো হচ্ছে। বর্তমানে যেখানে প্রতি পাঁচ মিনিট পরপর ট্রেন চলাচল করে, সেখানে ব্যবধান কমিয়ে সাড়ে চার মিনিট করার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রস্তাবিত সূচি অনুযায়ী, মতিঝিল থেকে উত্তরাগামী শেষ ট্রেন রাত ১১টা পর্যন্ত চালানোর চিন্তা করা হচ্ছে। বর্তমানে এই রুটে সর্বশেষ ট্রেন ছেড়ে যায় রাত ১০টা ১০ মিনিটে। একইভাবে উত্তরা থেকে মতিঝিলগামী শেষ ট্রেনও রাত ১০টা ১০ মিনিটে ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে বর্তমানে শেষ ট্রেন ছাড়ে রাত সাড়ে ৯টায়।

অন্যদিকে সকালে সময়সূচিতে আপাতত কোনো পরিবর্তন আনা হচ্ছে না। বর্তমানে উত্তরা থেকে দিনের প্রথম ট্রেন ছাড়ে সকাল সাড়ে ৬টায় এবং মতিঝিল থেকে প্রথম ট্রেন ছেড়ে যায় সকাল সোয়া ৭টায়। এর আগে ২০২৩ সালের অক্টোবরে এক দফা সময় বাড়ানো হয়েছিল। তখন সকালে আধা ঘণ্টা আগে এবং রাতে আধা ঘণ্টা পরে ট্রেন চলাচল শুরু ও শেষ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বর্তমানে প্রতিদিন মোট ২৯৭টি ট্রিপ পরিচালিত হচ্ছে। নতুন সময়সূচি কার্যকর হলে ট্রিপের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে জানা গেছে।

চলাচলের ব্যবধান কমানো হলে ব্যস্ত সময়ে যাত্রীসেবায় আরও গতি আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে ছুটির দিন ছাড়া অন্যান্য ব্যস্ত দিনে দুই ট্রেনের ব্যবধান পাঁচ মিনিট, যা কমিয়ে সাড়ে চার মিনিট করার পরিকল্পনা রয়েছে। এখন উত্তরা-মতিঝিল রুটে মোট ২৪ সেট ট্রেন রয়েছে, প্রতিটিতে ছয়টি করে কোচ। পিক আওয়ারে ১২ সেট ট্রেন নিয়মিত চলাচল করে। নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এই সংখ্যা বাড়িয়ে ১৪ সেট ট্রেন পরিচালনার প্রস্তুতি রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রযুক্তিগতভাবে সাড়ে তিন মিনিট পরপর ট্রেন চালানোর সক্ষমতা রয়েছে। তবে জনবল সংকটের কারণে ধাপে ধাপে সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। প্রকল্পের প্রাথমিক পরিকল্পনায় প্রতিদিন পাঁচ লাখ যাত্রী পরিবহনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। বর্তমানে দৈনিক গড়ে সোয়া চার লাখ যাত্রী মেট্রোরেল ব্যবহার করছেন। ভবিষ্যতে কমলাপুর পর্যন্ত সম্প্রসারণ কাজ শেষ হলে এই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৬ লাখ ৭৭ হাজারে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ডিএমটিসিএলের পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) মো. নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, রাতে দুই দিক থেকেই চলাচলের সময় বাড়ানোর বিষয়ে পরীক্ষা চলছে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর ঢাকায় মেট্রোরেল চালু হয়। প্রথমে উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত চলাচল শুরু হলেও পরবর্তীতে ধাপে ধাপে সম্প্রসারণ করে ২০২৩ সালের শেষ দিনে মতিঝিল পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ যাত্রীসেবা চালু করা হয়।