মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬

এআই ক্যামেরায় এক সপ্তাহে ৩ শতাধিক মামলা


রাজধানীতে ট্রাফিক আইন অমান্যকারীদের শনাক্তে এআই প্রযুক্তিসম্পন্ন ক্যামেরা চালুর পর গত এক সপ্তাহে ৩ শতাধিক মামলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার মো. সরওয়ার। তিনি বলেন, পুরোপুরি কার্যক্রম চালু হলে প্রতিদিন এক হাজারের বেশি ডিজিটাল মামলা হবে।
এআই ক্যামেরায় এক সপ্তাহে ৩ শতাধিক মামলা
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

রাজধানীতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নে এআই প্রযুক্তিনির্ভর ক্যামেরা ব্যবহারের মাধ্যমে ট্রাফিক আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল মামলা কার্যক্রম শুরু করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। এ ব্যবস্থার আওতায় গত এক সপ্তাহে ৩ শতাধিক মামলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার মো. সরওয়ার।

সোমবার (১১ মে) দুপুরে রাজধানীর উত্তরায় এয়ারপোর্ট সড়কে নতুন ট্রাফিক সিগন্যাল লাইট উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, “ঢাকা শহরকে আধুনিকায়ন করার জন্যই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কেউ ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করলে, উল্টো পথে গাড়ি চালালে বা নিয়ম ভঙ্গ করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডিজিটাল মামলা হবে। যার বিরুদ্ধে মামলা হবে, তিনি ভিডিও ফুটেজে নিজেই তার অপরাধ দেখতে পারবেন।শাস্তি দেওয়ার জন্য নয়, বরং সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতেই এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।”

ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, আপাতত রাজধানীর আটটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ট্রাফিক সিগন্যাল লাইট ও এআই প্রযুক্তিসম্পন্ন সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে প্রায় ৩০টি পয়েন্টে এ ব্যবস্থা চালু করা হবে। এর আগে ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, যানজট নিরসন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন এবং উন্নত নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে ই-ট্রাফিক প্রসিকিউশন সফটওয়্যারের মাধ্যমে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রেজিস্ট্রেশন ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অবৈধ পার্কিং, উল্টো পথে চলাচল, লাল বাতি অমান্য, স্টপ লাইন অতিক্রম, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানো-নামানো এবং লেফট লেন ব্লকের মতো অপরাধ ভিডিও ও স্থিরচিত্রের মাধ্যমে শনাক্ত করা হচ্ছে। পরে সংশ্লিষ্ট মালিক-চালকের ঠিকানায় ডাকযোগে অটো জেনারেটেড নোটিশ পাঠানো হচ্ছে।

নোটিশ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ডিএমপি সদর দপ্তর বা ট্রাফিক বিভাগে হাজির হয়ে ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে জরিমানা পরিশোধ করে মামলা নিষ্পত্তি করতে বলা হয়েছে।

ডিএমপি আরও জানিয়েছে, নোটিশ পাওয়ার পরও কেউ হাজির না হলে তার বিরুদ্ধে সমন বা গ্রেফতারি পরোয়ানাসহ পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া, সিসি ক্যামেরা বা ভিডিও মামলার নামে কোনো ব্যক্তি বা চক্র অর্থ দাবি করলে তা প্রতারণা হিসেবে গণ্য করে দ্রুত নিকটস্থ থানা বা সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।