প্রধানমন্ত্রী বেরিয়ে দেখলেন রাস্তায় কুরবানির বর্জ্য, দুই কর্মকর্তা বরখাস্ত
৩১ মে ২০২৬, ৩:২২ অপরাহ্ণ
সংবিধান সংশোধন ও বিগত সরকারের অধ্যাদেশসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান।
রোববার সকালে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে জেলা পরিষদের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে যোগ দেন আইনমন্ত্রী। অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “সংসদ অধিবেশনের শেষ সেশনের আগে আমরা বিরোধী দলকে বলেছিলাম-১৭ সদস্য বিশিষ্ট একটা সংবিধান সংশোধন কমিটি করতে চাই। সেখানে আমাদের পক্ষ থেকে সাতজন রেখেছি। পাঁচজন স্বতন্ত্র প্রতিনিধি যারা রয়েছেন, তাদের মধ্য থেকে রেখেছি। আর বাকি পাঁচজন বিরোধী দলের কাছ থেকে চেয়েছি।”
মন্ত্রী আরও জানান, বিরোধী দল আগামী সেশনে তাদের প্রতিনিধিদের নাম জানাবে বলেছে। সরকার বর্তমানে তাদের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছে। তাদের পক্ষ থেকে নামগুলো পেলেই সংবিধান সংশোধনের জন্য ‘জুলাই সনদের’ পথ ধরে হাঁটা শুরু হবে।
বাতিল হওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের অধ্যাদেশগুলো সংসদে উপস্থাপিত হবে কিনা-এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বিষয়টি পরিষ্কার করে বলেন, “বাতিল না, এটা হলো আমরা এখনো উপস্থাপন করিনি। আগে আমরা বলেছি, এগুলো আরও যাচাই-বাছাই করছি।” তিনি জানান, ইতোমধ্যে দুটি আইন নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা (ফার্স্ট কনসাল্টেশন) সম্পন্ন হয়েছে। এর একটি হলো মানবাধিকার কমিশন আইন এবং অন্যটি গুম কমিশন আইন। এই আইনগুলোর বিষয়ে অনেক সুপারিশ এসেছে, যা বর্তমানে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এগুলোকে সামনের কাতারে নিয়ে আসা হবে।
এদিকে রাজধানীর মিরপুরে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার অগ্রগতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আইনমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, আদালত এই মামলায় সর্বোচ্চ শাস্তি দেবেন। তিনি বলেন, “সরকারের হাতে যতটুকু সময় ও ক্ষমতা রয়েছে, তা যথাযথভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে। আমরা বলেছিলাম এক সপ্তাহের মধ্যে চার্জশিট হবে। আলহামদুলিল্লাহ, এক সপ্তাহের মধ্যেই চার্জশিট দিতে পেরেছি। বাকিটা এখন আদালতের কাজ, সেখানে আমরা আদালতকে সব ধরনের সহযোগিতা করব।”
তিনি আরও জানান, সোমবার আদালত খুললে প্রথম দিনেই এই মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে তা শুনানির জন্য রাখা হয়েছে। এটি সম্পূর্ণ আদালতের এখতিয়ার হলেও সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত ও ন্যায়বিচারের জন্য প্রার্থনা করা হবে। মামলায় পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি থাকায় আদালত সর্বোচ্চ শাস্তির বিষয়টি বিবেচনায় নেবেন বলে মন্ত্রী দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।