শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬

বিএনপির জয় মেনে নিল জামায়াত, দায়িত্বশীল বিরোধী দলের অঙ্গীকার শফিকুর রহমানের


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির বিজয়কে স্বীকৃতি দিয়ে ফলাফল মেনে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, সংসদে ৭৭টি আসন নিয়ে শক্তিশালী বিরোধী ব্লক হিসেবে দায়িত্বশীল ও নীতিভিত্তিক ভূমিকা পালন করবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯:০৫ পূর্বাহ্ণ 

বিএনপির জয় মেনে নিল জামায়াত, দায়িত্বশীল বিরোধী দলের অঙ্গীকার শফিকুর রহমানের
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী দল হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-কে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলের আমির শফিকুর রহমান শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১টা ৪৪ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এ ঘোষণা দেন।

পোস্টে তিনি বলেন, শুরু থেকেই জামায়াত একটি স্থিতিশীল ও কার্যকর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিল এবং এখনো সেই অবস্থানে অটল রয়েছে। তিনি সামগ্রিক নির্বাচনী ফলাফলকে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

শফিকুর রহমান লেখেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন- সেই অসংখ্য স্বেচ্ছাসেবক ও সমর্থকদের প্রতি তিনি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন। তিনি উল্লেখ করেন, অনেকেই সময়, শ্রম ও বিশ্বাস উৎসর্গ করেছেন এবং অনেকে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে গিয়ে ভয়ভীতি ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। তাদের সাহসিকতা দেশের গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ফলাফল নিয়ে অনেকে ব্যথিত ও হতাশ হতে পারেন, যা স্বাভাবিক। তবে তাদের প্রচেষ্টা বৃথা যায়নি। এবারের নির্বাচনে ৭৭টি আসনে জয়লাভের মাধ্যমে জামায়াত সংসদে নিজেদের উপস্থিতি প্রায় চারগুণ বাড়িয়েছে এবং আধুনিক বাংলাদেশের রাজনীতিতে অন্যতম শক্তিশালী বিরোধী ব্লকে পরিণত হয়েছে।

ইতিহাসের উদাহরণ টেনে জামায়াত আমির বলেন, ২০০৮ সালে বিএনপি মাত্র ৩০টি আসনে নেমে এসেছিল। দীর্ঘ ১৮ বছরের পথ পাড়ি দিয়ে ২০২৬ সালে তারা সরকার গঠন করেছে। গণতান্ত্রিক রাজনীতি একটি দীর্ঘ ও ধারাবাহিক প্রক্রিয়া- এ কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, জামায়াতের পথ এখন পরিষ্কার: জনগণের আস্থা অর্জন, ক্ষমতাকে জবাবদিহির আওতায় আনা এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া।

তিনি আরও বলেন, প্রকৃত গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় নেতৃত্বের আসল পরীক্ষা কেবল নির্বাচনী প্রচারণায় নয়, বরং জনগণের রায় কীভাবে গ্রহণ করা হয় তার ওপর নির্ভর করে। সেই বিবেচনায় ফলাফল মেনে নেওয়াই দায়িত্বশীল রাজনৈতিক আচরণের অংশ।

সবশেষে শফিকুর রহমান জানান, জামায়াতের আন্দোলন কখনোই কেবল একটি নির্বাচনের জন্য ছিল না; বরং গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি শক্তিশালী করা, নাগরিক অধিকার রক্ষা এবং ন্যায়বিচারভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যেই তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড। তিনি অঙ্গীকার করেন, দলটি নীতিবান, দায়িত্বশীল ও শান্তিপূর্ণ বিরোধী দল হিসেবে সংসদে ভূমিকা রাখবে এবং সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করার মাধ্যমে জাতীয় অগ্রগতিতে গঠনমূলক অবদান রাখবে।