মায়ের প্রতি চরম অবহেলা: সেই যুগ্ম সচিব ছেলেকে ওএসডি
১১ মে ২০২৬, ৯:২৬ অপরাহ্ণ
রাজনৈতিক দল হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন ফিরে পাওয়ার বিষয়ে আপিল বিভাগের রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করা হয়েছে। সোমবার (১১ মে) এ তথ্য জানান জামায়াতে ইসলামীর জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।
এর আগে গত বছরের ১ জুন তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বিভাগ বেঞ্চ এ বিষয়ে রায় ঘোষণা করেন। রায়ে সর্বোচ্চ আদালত বলেন, জামায়াতে ইসলামীর ‘পেন্ডিং রেজিস্ট্রেশন’ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশন দলটির নিবন্ধন ও নির্বাচনী প্রতীক পুনর্বহাল করে।
আদালতে জামায়াতের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন ব্যারিস্টার এহসান আবদুল্লাহ সিদ্দিকী ও অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী তৌহিদুল ইসলাম। এর আগে, ২০১৩ সালের ১ আগস্ট এক রিট আবেদন নিষ্পত্তি করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করে রায় দেন হাইকোর্ট। পরে ২০১৮ সালের ৭ ডিসেম্বর হাইকোর্টের রায়ের আলোকে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে নির্বাচন কমিশন।
হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে জামায়াতে ইসলামী। তবে শুনানির সময় দলের মূল আইনজীবী উপস্থিত না থাকায় তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ আপিলটি ‘ডিসমিসড ফর ডিফল্ট’ হিসেবে খারিজ করে দেন। ফলে হাইকোর্টের রায় বহাল থাকে।
পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ১ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় শেখ হাসিনা সরকারের আমলে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ১৮(১) ধারায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। তবে পরে গত বছরের ২৮ আগস্ট ওই নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
এরপর রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণার বিরুদ্ধে আপিল পুনরুজ্জীবনের আবেদন করা হয়। আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির জানান, আপিলটি পূর্বে ‘ডিসমিসড ফর ডিফল্ট’ হয়েছিল। পরে ২০২৪ সালের ২২ অক্টোবর আপিল পুনরুজ্জীবনের আবেদন মঞ্জুর হলে মামলাটি পুনরায় মেরিট অনুযায়ী শুনানির জন্য কার্যক্রম শুরু হয়।