জুলাই গণঅভ্যুত্থান আইন ২০২৬ পাস: অংশগ্রহণকারীদের সুরক্ষা ও মামলা প্রত্যাহারের বিধান
৩১ জানুয়ারী ২০২৬, ৯:০৮ অপরাহ্ণ
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জনগণের চাপ ও জাতির ধাক্কা খেয়ে এখন কেউ কেউ ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে কথা বলতে শুরু করেছে। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেলে কেরানীগঞ্জের শাক্তা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনি জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই সংস্কার প্রস্তাব ও গণভোট নিয়ে শুরু থেকেই একটি মহল টালবাহানা করে আসছে। “প্রথমে তারা গণভোটের বিরোধিতা করেছে। পরে জনচাপের মুখে একই দিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে সম্মত হয়। এখন আবার তারা বলছে - গণভোট মানে না। কিন্তু জনগণ যখন জবাব চাইছে, তখন বাধ্য হয়ে তারা ‘হ্যাঁ’ ভোটের কথা বলছে,” বলেন তিনি। তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই শহীদদের অবমূল্যায়নের চেষ্টা করা হয়েছে। “যারা একসময় জুলাইকে স্বীকৃতি দিতেই চায়নি, তারাই আজ নিজেদের জুলাইয়ের ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে দাবি করছে। এটি জনগণের সঙ্গে সরাসরি প্রতারণা,” মন্তব্য করেন জামায়াত আমির।
জুলাই চেতনার নামে চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, জমি দখল, মামলা বাণিজ্য ও নিরীহ মানুষের ওপর নির্যাতনের তীব্র সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এসব কর্মকাণ্ড কখনোই জুলাইয়ের আদর্শ হতে পারে না এবং জনগণ তা মেনে নেবে না। তিনি আরও বলেন, অতীতের শাসকরা গুম, খুন ও আয়নাঘর সংস্কৃতির মাধ্যমে দেশকে ভয়াবহ অবস্থার দিকে ঠেলে দিয়েছে। “এখন সময় এসেছে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি নিরাপদ, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার,” বলেন তিনি।
নির্বাচন প্রসঙ্গে জামায়াত আমির দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, পরিবারতন্ত্র ও ব্যাংক লুটের রাজনীতির বিরুদ্ধে জনগণকে ‘লাল কার্ড’ দেখানোর আহ্বান জানান। ঢাকা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি অধ্যক্ষ আফজাল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা আমির মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন। সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম।
এছাড়া বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ঢাকা-১ আসনের প্রার্থী ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম, ঢাকা-২ আসনের প্রার্থী কর্নেল (অব.) আব্দুল হক এবং ঢাকা-৩ আসনের প্রার্থী অধ্যক্ষ শাহীনুর ইসলাম। এনসিপির মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে বক্তব্য দেন ঢাকা-১৯ আসনের দিলশানা পারুল ও ঢাকা-২০ আসনের ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিম।