ধানমন্ডি ৩২-এ ফুল দিতে গিয়ে যুবক আটক
১৮ আগস্ট ২০২৬, ১০:২৪ পূর্বাহ্ণ
ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে ঐতিহাসিক জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। এই জয় দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে বড় করে লেখা থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি তামিম ইকবাল। একই সঙ্গে দলের এই সাফল্যের পুরো কৃতিত্ব খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ, ম্যানেজমেন্ট ও নির্বাচকদের দিয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের এই ঐতিহাসিক জয় নিয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া জানান বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল।
তামিম বলেন, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই জয় বাংলাদেশের জন্য দারুণ একটি অর্জন। খেলোয়াড়েরা যে পারফরম্যান্স দেখিয়েছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তার মতে, এটি শুধু একটি ম্যাচের জয় নয়, বরং বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের সক্ষমতার একটি বার্তা।
তিনি বলেন, ‘এটা দারুণ অর্জন। এই ছেলেরা যা অর্জন করেছে, তা দুর্দান্ত। এটা কেবল একটি জয় নয়, এটা বিশ্বের প্রতি একটা বার্তা। টেস্ট ক্রিকেটে আমরা যেমন খেলছি, পাকিস্তান সিরিজেও যেমন পারফরম্যান্স করেছি, সেটি আমাদের উন্নতির প্রমাণ।’
বাংলাদেশের বোলিং ইউনিটের প্রশংসা করে তামিম বলেন, এই জয়ের পেছনে পেস বোলিং ইউনিটের বড় ভূমিকা রয়েছে। তাদের ধারাবাহিক পারফরম্যান্সই দলকে ম্যাচ জয়ের সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। পাশাপাশি সফরে ব্যাটারদের পারফরম্যান্সেও সন্তুষ্ট তিনি।
তামিম বলেন, ‘ফাস্ট বোলিং ইউনিটকে অনেক কৃতিত্ব দিতে হবে। তাদের জন্য আমরা ম্যাচ জেতার সুযোগ সৃষ্টি করতে পারছি। অবশ্যই, এই সফরে ব্যাটাররাও দারুণ করছে। আমি অনেক খুশি এবং অনেক গর্বিত।’
ঐতিহাসিক এই জয়ের কৃতিত্ব নিজের বা বোর্ডের না দিয়ে খেলোয়াড় ও সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি দিয়েছেন বিসিবি সভাপতি। তার মতে, মাঠে খেলোয়াড়দের কঠোর পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাসই এই সাফল্যের মূল কারণ।
তামিম বলেন, ‘এই জয়ের কৃতিত্ব খেলোয়াড়, ম্যানেজমেন্ট এবং নির্বাচকদের। তারা অনেক পরিশ্রম করেছে এবং এই অর্জন পেয়েছে। বোর্ডে আমরা কেবল তাদের সুযোগ-সুবিধা দিই, এটাই আমাদের কাজ। আমাদের কোনো কৃতিত্ব নেই এখানে। বরং আমাদের উচিত তাদের কৃতিত্ব দেওয়া।’
বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে এই জয় অন্যতম সেরা অর্জন বলেও মনে করেন তামিম। তার ভাষায়, ‘হয়তো বাংলাদেশের ইতিহাসের সেরা জয়।’ সিরিজ শুরুর আগে টেস্ট দলের অধিনায়কের সঙ্গে হওয়া কথোপকথনের কথাও স্মরণ করেন বিসিবি সভাপতি। তিনি জানান, ম্যাচের আগে অধিনায়ক তাকে বলেছিলেন, দলের খেলোয়াড়েরা বিশ্বাস করেন তারা অস্ট্রেলিয়াকে হারাতে পারবেন।
তামিম বলেন, ‘আমার মনে আছে, অধিনায়কের সঙ্গে কথা বলছিলাম। অধিনায়ক বলেছিল, সে যখন তার দলের সঙ্গে আলাপ করেছিল, তারা বিশ্বাস করত যে তারা জিততে পারে। আমার এখনও মনে আছে, সে আমাকে বলেছিল যে দল বিশ্বাস করে আমরা জিততে পারি।’
অধিনায়কের সেই আত্মবিশ্বাসকে ইতিবাচকভাবে নিয়েছিলেন জানিয়ে তামিম বলেন, তিনি তখন জানিয়েছিলেন-কেন নয়, বাংলাদেশ জিততেই পারে। তবে অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে কাজটি যে কঠিন হবে, সেটিও তিনি জানতেন।
তামিম বলেন, ‘আমি বলেছি, অবশ্যই, কেন নয়? অবশ্যই অনেক কঠিন কাজ হবে। অনেক বড় দলের জন্যই কঠিন। দল যদি বিশ্বাস করে, এর চেয়ে বেশি কিছু চাইতে পারেন না আপনি। বিশ্বাসটাই বাস্তবায়ন হয়েছে। এর চেয়ে বেশি আর কিছু চাওয়ার নেই।’
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের এই জয় তাই শুধু একটি ম্যাচের ফল নয়, বরং টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক উন্নতিরও প্রতিফলন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আত্মবিশ্বাস, পেস বোলিংয়ের কার্যকর ব্যবহার এবং ব্যাটারদের দায়িত্বশীল পারফরম্যান্সের সমন্বয়েই এসেছে এই স্মরণীয় সাফল্য।