মিরপুরে ডিবির জালে ‘শ্যুটার জাকির’, দুই আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি উদ্ধার
৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫৯ পূর্বাহ্ণ
দারুণ সব সুযোগ তৈরি করেও গোলের দেখা পেল না রিয়াল মাদ্রিদ। শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি পেয়েও ব্যর্থ হলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। সেই সুযোগে রিয়াল বেতিসের মাঠে ১-০ গোলের হারে চলতি লা লিগা মৌসুমে প্রথমবারের মতো হারের তিতো স্বাদ পেল লস ব্লাঙ্কোসরা।
চলতি মৌসুমে শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়ে শুরুটা ভালোই করেছিল রিয়াল মাদ্রিদ। তবে লা লিগায় নিজেদের চতুর্থ ম্যাচেই এসে থামল তাদের জয়রথ। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাতে রিয়াল বেতিসের মাঠে ১-০ গোলের ব্যবধানে হেরেছে লস ব্লাঙ্কোসরা।
ম্যাচজুড়ে একের পর এক সুযোগ তৈরি করেও তা কাজে লাগাতে পারেনি রিয়াল। শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি পেয়েও গোল করতে ব্যর্থ হন ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে। অন্যদিকে, সীমিত সুযোগ কাজে লাগিয়ে স্মরণীয় জয় তুলে নেয় স্বাগতিক বেতিস।
ম্যাচের ১১তম মিনিটে প্রথম উল্লেখযোগ্য সুযোগ তৈরি করে রিয়াল মাদ্রিদ। ডান দিক থেকে আর্দা গুলেরের ক্রসে বলের লাইনে পা বাড়ান ডিন হাউসেন। তবে ঝাঁপিয়ে পড়ে তার প্রচেষ্টা রুখে দেন বেতিস গোলরক্ষক। তিন মিনিট পর আবারও প্রতিপক্ষ রক্ষণে আতঙ্ক ছড়ান গুলের। এমবাপ্পের দারুণ পাস ডি-বক্সে পেয়ে গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে দূরের পোস্টের দিকে বল বাড়ান তুর্কি মিডফিল্ডার। কঠিন কোণ থেকে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের নেওয়া শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে।
৪৩তম মিনিটে মুহূর্তের ব্যবধানে দুটি সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করেন এমবাপ্পে। মাঝমাঠ থেকে আসা থ্রু বল দারুণভাবে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে সবার আগে ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন ভিনিসিয়ুস। তাকে ঠেকাতে এগিয়ে আসেন গোলরক্ষক। সেই মুহূর্তে ডান দিকে ফাঁকায় থাকা এমবাপ্পেকে ছোট পাস দেন ব্রাজিলিয়ান তারকা। তবে ফাঁকায় বল পেয়েও সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি এমবাপ্পে। তার প্রথম শট বেতিসের এক ডিফেন্ডারের গায়ে বাধা পায়। ফিরতি বলে আবারও শট নিলেও সেটিও প্রতিপক্ষের আরেক রক্ষণের শরীরে লেগে যায়।
বিরতির আগে আরও দুটি দারুণ সুযোগ পায় সফরকারীরা। কর্নার থেকে জুড বেলিংহ্যামের হেড ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক। এরপর আরেক কর্নার থেকে হাউসেনের হেড গিয়ে লাগে ক্রসবারে।
দ্বিতীয়ার্ধেও একইভাবে বেতিসের ওপর চাপ ধরে রাখে রিয়াল মাদ্রিদ। কিন্তু গোলের দেখা মিলছিল না। ৬৭তম মিনিটে আবারও হতাশ করেন এমবাপ্পে। হাউসেনের থ্রু পাস ডি-বক্সে ঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেননি তিনি। পরে কোনোমতে নেওয়া তার দুর্বল শট গোলরক্ষককে পরাস্ত করতে পারেনি।
প্রথমার্ধে তেমন কোনো আক্রমণ গড়তে না পারা বেতিস ম্যাচের ৮১তম মিনিটে প্রথমবার লক্ষ্যে শট নিয়েই এগিয়ে যায়। কর্নার থেকে মিডফিল্ডার নেলসন দেয়োসার হেড ঝাঁপিয়ে এক হাতে ঠেকান রিয়াল গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া। তবে ফিরতি বলে দলকে বিপদমুক্ত করতে পারেননি তিনি।
গোলমুখে ফাঁকায় থাকা আইরিশ স্ট্রাইকার ট্রয় প্যারোট ফিরতি বল জোরাল শটে জালে পাঠিয়ে বেতিসকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। গোল হজমের চার মিনিট পর আবারও দুর্ভাগ্য সঙ্গী হয় রিয়ালের। এবার এমবাপ্পের চিপ শট গিয়ে লাগে ক্রসবারে। এরপর খানিক আগে বদলি হিসেবে মাঠে নামা কার্লোস এস্পি অ্যাক্রোবেটিক ভলিতে বল জালে পাঠালেও ভিএআরের সহায়তায় অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল করেন রেফারি।
নির্ধারিত সময়ের পর যোগ করা সময়ে হঠাৎ করেই হার এড়ানোর সুবর্ণ সুযোগ পায় রিয়াল মাদ্রিদ। ডি-বক্সে ভিনিসিয়ুস ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় সফরকারীরা। তবে স্পট কিক থেকে দলকে রক্ষা করতে পারেননি এমবাপ্পে। তার নেওয়া দুর্বল পেনাল্টি ঠেকিয়ে দেন বেতিস গোলরক্ষক আলভারো। ফলে ১-০ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে স্বাগতিকরা।
চার ম্যাচে তিন জয় ও এক হারে ৯ পয়েন্ট নিয়ে আপাতত লা লিগার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। সমান ম্যাচে সমান ৯ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে বেতিস। তিন ম্যাচে ৯ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার শীর্ষে রয়েছে বার্সেলোনা।