মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬

মেসিদের স্তব্ধ করে স্পেনের মহাকাব্যিক জয়


বিশ্বকাপ ফাইনালে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেও নির্ধারিত সময়ে গোলের দেখা পায়নি স্পেন। তবে অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট জয় করে লা রোজা।

২০ জুলাই ২০২৬, ৯:১৫ পূর্বাহ্ণ 

মেসিদের স্তব্ধ করে স্পেনের মহাকাব্যিক জয়
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

বিশ্বকাপ ফাইনালে শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে রাখে স্পেন। বল দখল, পাসিং এবং আক্রমণে একের পর এক সুযোগ তৈরি করলেও আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজের দুর্দান্ত নৈপুণ্যে দীর্ঘ সময় গোলশূন্যই থাকে ম্যাচ।

পঞ্চম মিনিটেই এগিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ তৈরি করেছিল স্পেন। লামিন ইয়ামালের ক্রস ডিফ্লেক্ট হয়ে পৌঁছে যায় দানি ওলমোর কাছে। ওলমো আবার বল ফিরিয়ে দেন ইয়ামালের উদ্দেশে। তবে লিসান্দ্রো মার্টিনেজসহ আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগের সম্মিলিত চেষ্টায় গোল করতে পারেননি তরুণ এই তারকা। এর দুই মিনিট পর লিওনেল মেসি গোলের সুযোগ পেলেও দ্রুত লাইন ছেড়ে বেরিয়ে এসে স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমন তার প্রচেষ্টা নস্যাৎ করে দেন।

প্রথমার্ধজুড়ে আক্রমণের ধার অব্যাহত রাখে স্পেন। ৩৯ মিনিটে লাপোর্তে, রদ্রি ও বায়েনার দারুণ সমন্বয়ের পর ফাবিয়ান রুইজ বল বাড়িয়ে দেন মিকেল ওয়ারজাবালের কাছে। তার জোরালো শটও দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন মার্টিনেজ। ৪১ মিনিটে ওয়ারজাবালকে ফাউল করে ম্যাচের প্রথম হলুদ কার্ড দেখেন লিসান্দ্রো মার্টিনেজ। ইনজুরির কারণে দুই মিনিট পর তাকে বদলি করে মাঠে নামেন নিকোলাস ওতামেন্দি।

প্রথমার্ধ শেষে বলের দখলে ছিল স্পেনের ৬৫ শতাংশ, যেখানে আর্জেন্টিনার ছিল মাত্র ৩৫ শতাংশ। লক্ষ্যে দুটি শট নেওয়ার পাশাপাশি ৩১৩টি সফল পাস দেয় স্পেন। বিপরীতে আর্জেন্টিনা সফল পাস দেয় ১৫৫টি এবং পুরো প্রথমার্ধে লক্ষ্যে একটি শটও রাখতে পারেনি। ফাইনাল থার্ডেও স্পেন ৩৫ বার প্রবেশ করে, যেখানে আর্জেন্টিনা যায় মাত্র ১৮ বার। বিরতির পর লিওনেল স্কালোনি মিডফিল্ড শক্তিশালী করতে নিকো গঞ্জালেজের পরিবর্তে লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে নামান। তবে মাঠে নেমেই রদ্রিকে পেছন থেকে ধাক্কা দিয়ে হলুদ কার্ড দেখেন এই মিডফিল্ডার।

দ্বিতীয়ার্ধেও একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকে স্পেন। ৫৫ মিনিটে নিকোলাস ওতামেন্দির শেষ মুহূর্তের ট্যাকল নিশ্চিত গোল বাঁচায়। এরপর ওলমো, বায়েনা, কুকুরেয়া ও ইয়ামালের তৈরি করা আরও কয়েকটি সুযোগ মার্টিনেজ কিংবা আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ নষ্ট করে দেয়। ৬২ মিনিটে পেদ্রি ও ফেরান তোরেসকে মাঠে নামান স্পেনের কোচ। পরে নিকো উইলিয়ামস ও মিকেল মেরিনোকেও নামানো হয়। বদলি খেলোয়াড়দের আগমনে আক্রমণের গতি আরও বাড়ায় লা রোজা।

শেষ মুহূর্তে এনজো ফার্নান্দেজ দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। ইনজুরি সময়ে ইয়ামালের নেওয়া দুর্দান্ত ফ্রি-কিকও অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন মার্টিনেজ। অতিরিক্ত সময়ের শুরুতে নিকো উইলিয়ামস বল জালে পাঠালেও মিকেল মেরিনোর ফাউলের কারণে ভিএআরের সহায়তায় গোল বাতিল করা হয়। তবে হতাশ হতে হয়নি স্পেনকে। অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই পেদ্রো পোরোর ক্রস থেকে নিকো উইলিয়ামসের শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ফিরতি বলে দ্রুত ঝাঁপিয়ে পড়ে বল জালে জড়িয়ে দেন ফেরান তোরেস। বদলি হিসেবে নেমে ফাইনালের একমাত্র গোলটি করে স্পেনকে এগিয়ে দেন তিনি।

১১৩ মিনিটে তোরেস আবারও বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে সেই গোল বাতিল হয়। শেষ মুহূর্তে মেসির ফ্রি-কিক থেকে আর্জেন্টিনা সমতা ফেরানোর সুযোগ পেলেও জিউলিয়ানো সিমিওনে বলের নাগাল পাননি। এরপর তার আরেকটি শটও গোলবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে ১-০ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে স্পেন। অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের গোলে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বকাপের শিরোপা জিতে নতুন ইতিহাস গড়ে লা রোজা।