পর্তুগালকে রুখে দিয়ে ডিআর কঙ্গোর ইতিহাস
১৯ জুন ২০২৬, ১১:১০ পূর্বাহ্ণ
১৯৮৬ এবং ২০২২ বিশ্বকাপে খেলা ছয় ম্যাচের সবকটিতেই হারের তিক্ত স্বাদ নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল কানাডাকে। এবার ঘরের মাঠে তাই জয়ের বিকল্প ছিল না। সেই ইতিহাসটাকেই যেন নতুন করে লিখল জেসি মার্শের দল। বাংলাদেশ সময় শুক্রবার ভোর ৪টায় ভ্যাঙ্কুভারের বিসি প্লেস স্টেডিয়ামে 'বি' গ্রুপের ম্যাচে কাতারকে গোলবন্যায় ভাসিয়েছে স্বাগতিকরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবলে কাতারকে চেপে ধরে কানাডা। সেই চাপের মুখে ১৬তম মিনিটে প্রথম গোলের দেখা পায় তারা। জোনাথন ডেভিডের নেওয়া জোরালো শট কাতারের গোলরক্ষক পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিতে না পারলে ফিরতি বলে সাউদাম্পটনে খেলা স্ট্রাইকার কাইল লারিন বল জালে জড়িয়ে দলকে লিড এনে দেন।
এরপর শুরু হয় জোনাথন ডেভিড শো। ২৯তম মিনিটে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে নিজের প্রথম ও দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি। ম্যাচের মোড় পুরোপুরি কানাডার দিকে ঘুরে যায় প্রথমার্ধেরই ৩৭তম মিনিটে, যখন তাজন বুকানানকে ফাউল করায় কাতারের হোমাম আহমেদ লাল কার্ড (ভিএআর পর্যালোচনার পর) দেখে মাঠ ছাড়েন। ১০ জনের কাতারকে পেয়ে আরও চড়াও হয় স্বাগতিকরা। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে (৪৫+৩ মিনিটে) ডেভিড নিজের দ্বিতীয় গোল করে দলকে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে নিয়ে বিরতিতে যান।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ৫২ মিনিটে কাতারের আসিম মাদিবু সরাসরি লাল কার্ড দেখলে ৯ জনের দলে পরিণত হয় মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি। সেই সুযোগ পুরোদমে কাজে লাগায় কানাডা। ৬৪তম মিনিটে দলের হয়ে চতুর্থ গোলটি করেন নাথান সালিবা। এরপর ৭৫তম মিনিটে কাতারের মোহাম্মদ মানাইয়ের আত্মঘাতী গোলে ব্যবধান দাঁড়ায় ৫-০। ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার ঠিক আগ মুহূর্তে, যোগ করা সময়ে (৯২ মিনিটে) ডেভিড তাঁর কাঙ্ক্ষিত হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন এবং দলকে ৬-০ গোলের ঐতিহাসিক জয় এনে দেন। এই হ্যাটট্রিকের মাধ্যমে চলতি বিশ্বকাপে লিওনেল মেসির পর দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে হ্যাটট্রিকের কীর্তি গড়লেন ডেভিড।
এই বড় জয়ের সুবাদে কানাডা বিশ্বকাপের স্বাগতিক হিসেবে যৌথভাবে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয়ের রেকর্ডে নাম লেখাল। এর আগে ১৯৩৪ সালে ইতালি, ১৯৫০ বিশ্বকাপে ব্রাজিল এবং ১৯৭৮ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা স্বাগতিক দেশ হিসেবে ৬ গোলের ব্যবধানে জয় পেয়েছিল। তবে ম্যাচের এই আনন্দের মাঝেও বড় ধাক্কা খেয়েছে কানাডা শিবির; দ্বিতীয়ার্থের শুরুর দিকে গুরুতর চোট পেয়ে স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়তে হয়েছে তাদের অন্যতম মিডফিল্ডার ইসমাইল কোনেকে।