জুলাই গণঅভ্যুত্থান আইন ২০২৬ পাস: অংশগ্রহণকারীদের সুরক্ষা ও মামলা প্রত্যাহারের বিধান
৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯:১৯ পূর্বাহ্ণ
ইরানের প্রখ্যাত মানবাধিকার কর্মী ও ২০২৩ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী নার্গিস মোহাম্মাদিকে প্রায় সাড়ে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তার আইনজীবী এবং তাকে সমর্থনকারী একটি সংগঠন এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। খবর জানিয়েছে আল-জাজিরা।
বার্তা সংস্থা এএফপিকে নার্গিস মোহাম্মাদির আইনজীবী মোস্তাফা নিলি জানান, ‘অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্যে সমাবেশ ও ষড়যন্ত্রের’ অভিযোগে তাকে ছয় বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ‘প্রপাগান্ডা চালানোর’ অভিযোগে আরও দেড় বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আদালতের রায়ে তাকে পূর্ব ইরানের দক্ষিণ খোরাসান প্রদেশের খোসফ শহরে দুই বছরের জন্য নির্বাসনে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তার ওপর দুই বছরের দেশত্যাগ নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করা হয়েছে।
আইনজীবী মোস্তাফা নিলি জানান, এই রায় এখনো চূড়ান্ত নয় এবং এর বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার কারণে চিকিৎসার স্বার্থে নার্গিস মোহাম্মাদিকে সাময়িকভাবে জামিনে মুক্তি দেওয়া হতে পারে।
কারাগারে নিজের আটক পরিস্থিতি, আইনজীবী ও পরিবারের সঙ্গে ফোনে কথা বলতে না পারার প্রতিবাদে গত ২ ফেব্রুয়ারি অনশন শুরু করেন নার্গিস মোহাম্মাদি। তার পরিবার পরিচালিত নার্গিস ফাউন্ডেশনের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, অনশনের ষষ্ঠ দিনে তিনি অনশন প্রত্যাহার করেছেন। তবে বিবৃতিতে বলা হয়, তার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
উল্লেখ্য, নার্গিস মোহাম্মাদি ইরানের দ্বিতীয় নারী হিসেবে নোবেল শান্তি পুরস্কার অর্জন করেন। এর আগে ২০০৩ সালে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার উন্নয়নে ভূমিকার জন্য এই পুরস্কার পান শিরিন এবাদি।
প্রখ্যাত লেখক ও সাংবাদিক নার্গিস মোহাম্মাদি ইরানের ‘ডিফেন্ডার্স অব হিউম্যান রাইটস সেন্টার (ডিএইচআরসি)’–এর উপপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘদিন ধরে এই সংগঠনটি রাজনৈতিক বন্দিদের অধিকার রক্ষা ও মানবাধিকার সংস্কারের পক্ষে কাজ করে আসছে। নারী অধিকার আন্দোলনের পাশাপাশি তিনি মৃত্যুদণ্ড ও দুর্নীতির বিরুদ্ধেও সোচ্চার অবস্থান নিয়েছেন।
নোবেল কমিটি ২০২৩ সালে জানায়, নারীদের অধিকারের জন্য দুই দশকের সংগ্রামের মাধ্যমে নার্গিস মোহাম্মাদি ইরানে স্বাধীনতা ও মানবাধিকারের প্রতীক হয়ে উঠেছেন।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর আইনজীবী খসরু আলিকোরদির রহস্যজনক মৃত্যুর নিন্দা জানানোর পর নার্গিস মোহাম্মাদিকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে সময় রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি হাসান হেমাতিফার দাবি করেন, উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে আলিকোরদির স্মরণসভায় তিনি উসকানিমূলক বক্তব্য দেন এবং উপস্থিতদের শান্তি বিঘ্নিত করার মতো স্লোগানে উৎসাহিত করেন।