এসএসসির ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন শুরু মঙ্গলবার
১২ আগস্ট ২০২৬, ৭:৪৮ অপরাহ্ণ
দেশে গ্যাসের জরুরি চাহিদা পূরণে চার প্রতিষ্ঠান থেকে এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকার। আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা ও চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানির নিরাপদ সরবরাহ নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এসব ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দেশে গ্যাসের জরুরি চাহিদা পূরণে স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি উভয় ব্যবস্থায় এলএনজি সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সরকার থেকে সরকার (জিটুজি) চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের গানভর ইউএসএ এলএলসির কাছ থেকে ২০২৬ সাল থেকে ২০৩৮ সাল পর্যন্ত মোট ১১৭ কার্গো এলএনজি কেনা হবে।
চুক্তির আওতায় ২০২৬ সালে পাঁচ কার্গো, ২০২৭ সালে ছয় কার্গো এবং ২০২৮ সালে তিন কার্গো এলএনজি কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এসব এলএনজির দাম নির্ধারণ করা হবে জেকে এম সূচকের সঙ্গে প্রতি এমএমবিটিইউতে শূন্য দশমিক ৮৭৫ মার্কিন ডলার যোগ করে। এ ছাড়া ২০২৮ সালে আরও তিন কার্গো এবং ২০২৯ থেকে ২০৩৮ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর ১০ কার্গো করে এলএনজি কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ পর্যায়ের এলএনজির দাম নির্ধারণ করা হবে ১২১ শতাংশ এইচএইচ সূচকের সঙ্গে প্রতি এমএমবিটিইউতে ৫ দশমিক ২০ মার্কিন ডলার যোগ করে।
অন্যদিকে, সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে যুক্তরাজ্যের ব্ল্যাককিউব ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের কাছ থেকে দুই কার্গো এলএনজি কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রতি এমএমবিটিইউ ১৫ দশমিক ৫০ মার্কিন ডলার দরে এসব এলএনজি কেনা হবে।
ওমানের ম্যাক্সওয়েল ইন্টারন্যাশনাল এসপিসির কাছ থেকেও দুই কার্গো এলএনজি কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে জেকে এম সূচকের সঙ্গে প্রতি এমএমবিটিইউতে শূন্য দশমিক ৫৪ মার্কিন ডলার যোগ করে দাম নির্ধারণ করা হবে। এ ছাড়া হংকংয়ের ঝেনইউ শিপিং কোম্পানি লিমিটেডের কাছ থেকে ২০২৬ সালে আরও দুই কার্গো এলএনজি কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এসব এলএনজির দাম হবে প্রতি এমএমবিটিইউ ১৪ দশমিক ৯৫ মার্কিন ডলার।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামের অস্থিরতা এবং চলমান যুদ্ধের কারণে এলএনজির সরবরাহ ও মূল্য নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দেশের গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির পাশাপাশি স্বল্পমেয়াদে এলএনজি সংগ্রহের মাধ্যমে জরুরি চাহিদা পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।