জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দিলেন লিওনেল মেসি
৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৪৩ পূর্বাহ্ণ
নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ২০৪ জনে দাঁড়িয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকায় উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান জোরদার করার পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া মরদেহ দ্রুত সৎকারের প্রক্রিয়া শুরু করেছে প্রশাসন। নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (এনডিআরআরএমএ) সর্বশেষ তথ্যের ভিত্তিতে এ চিত্র সামনে এসেছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাজধানী কাঠমান্ডুতে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লোক বাহাদুর ছেত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে বন্যা পরিস্থিতি ও উদ্ধার কার্যক্রমের সর্বশেষ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, প্রতিকূল আবহাওয়া ও দুর্গম ভৌগোলিক পরিস্থিতির মধ্যেও উদ্ধারকর্মীরা দিনরাত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। এখন পর্যন্ত বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা থেকে মোট ১১ হাজার ৯৯৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে এখনো প্রায় ৩ হাজার ৯০০ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। নিখোঁজ ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করতে তাদের স্বজন ও নিকটাত্মীয়দের ডিএনএ নমুনা জমা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র।
মহারাজগঞ্জের নেপাল পুলিশ হাসপাতাল অথবা দেশের যেকোনো জেলা পুলিশ কার্যালয়ে নিখোঁজদের স্বজনরা ডিএনএ নমুনা জমা দিতে পারবেন বলে জানানো হয়েছে। দুর্গত এলাকাগুলোতে নেপাল সেনাবাহিনী, সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী ও সাধারণ পুলিশের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ দলও কাজ করছে।
ভারত, চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিশেষ উদ্ধারকারী দল দুর্গম পার্বত্য অঞ্চল ল্যাংটাং, চিলিমে ও আপার ত্রিশূলী এলাকায় উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নিয়েছে। এসব অঞ্চলে বন্যা ও ভূমিধসের পর জমে থাকা কাদা-পাথর সরানোর পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকায়ও উদ্ধারকাজ চলছে।
সরকারি তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত ৩০০ জনের বেশি বিদেশি নাগরিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে বিশ্বের ৩৪টি দেশের প্রায় ৫৯০ জন বিদেশি পর্যটক ও নাগরিক এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে নেপাল সরকার। দুর্গম ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে অনুসন্ধান কার্যক্রম দ্রুততর করতে ড্রোনসহ সর্বোচ্চ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও নিশ্চিত করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
ভয়াবহ এ দুর্যোগে নেপালের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এখনো বহু এলাকা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় হতাহত ও নিখোঁজের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।