জুলাই গণঅভ্যুত্থান আইন ২০২৬ পাস: অংশগ্রহণকারীদের সুরক্ষা ও মামলা প্রত্যাহারের বিধান
৩১ জানুয়ারী ২০২৬, ৯:২৭ পূর্বাহ্ণ
যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলাইনা ও ভার্জিনিয়ার উপকূলীয় অভিমুখে ধেয়ে আসছে সমুদ্রে সৃষ্ট শক্তিশালী এক ‘বোম্ব সাইক্লোন’। দ্রুত গতিতে শক্তিশালী হয়ে ওঠা এই ভয়ংকর শীতকালীন ঝড়ের প্রভাবে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশটির দক্ষিণ-পূর্ব ও মধ্য-আটলান্টিক অঞ্চলে নজিরবিহীন তুষারপাত, বিধ্বংসী ঝোড়ো হাওয়া এবং ভয়াবহ উপকূলীয় বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, এই ঝড়টি কেবল সাধারণ তুষারপাত নয়, বরং ‘বোম্বোজেনেসিস’ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একটি দানবীয় রূপ ধারণ করছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার রাত থেকেই ঝড়ের প্রাথমিক প্রভাব শুরু হবে। তবে শনিবার রাত নাগাদ এটি নর্থ ক্যারোলাইনা ও ভার্জিনিয়ার উপকূলীয় এলাকায় পূর্ণ শক্তিতে আঘাত হানতে পারে। ওই সময় তুষারপাতের পাশাপাশি প্রায় হারিকেন-গতির (ঘণ্টায় প্রায় ১২০ কিলোমিটার) দমকা হাওয়া বইতে পারে, যা পুরো জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলবে। ঝড়ের গতিপথ যদি আরও উপকূল ঘেঁষে যায়, তবে নিউ ইংল্যান্ডের পূর্ব ম্যাসাচুসেটসেও তীব্র তুষারপাত ও প্রবল বাতাসের প্রকোপ দেখা দেবে।
আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, শুক্রবার রাতে নর্থ ক্যারোলাইনা উপকূলের কাছে নিম্নচাপটি সৃষ্টি হবে এবং শনিবার দ্রুত উত্তর দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় শক্তি সঞ্চয় করবে। বিজ্ঞানের ভাষায় বায়ুমণ্ডলের চাপের এই আকস্মিক পতনকে বলা হয় ‘বোম্বোজেনেসিস’। এর ফলে উত্তর দিক থেকে প্রচণ্ড ঠান্ডা বাতাস দক্ষিণের দিকে ধেয়ে আসবে। এর প্রভাবে এমন কিছু এলাকায় তুষারপাত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে, যেখানে সাধারণত শীতকালীন ঝড় খুব একটা দেখা যায় না।
বর্তমানে দক্ষিণ-পূর্ব যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখ মানুষকে শীতকালীন ঝড়ের উচ্চ সতর্কবার্তার আওতায় রাখা হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে: জর্জিয়ার উত্তরাঞ্চল, পুরো ক্যারোলাইনা অঞ্চল, দক্ষিণ ভার্জিনিয়া । এই অঞ্চলের বাসিন্দারা গত সপ্তাহের প্রাণঘাতী শীতকালীন ঝড়ের ক্ষতিই এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি। নতুন করে এই দুর্যোগ তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উপকূলীয় এলাকার অনেক অংশে বন্যার আশঙ্কায় বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে। বিরূপ আবহাওয়ার কারণে উড়োজাহাজ চলাচল ও সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন লোকজনকে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের না হতে এবং প্রয়োজনীয় খাদ্য ও ওষুধ মজুত রাখার পরামর্শ দিয়েছে।