জুলাই গণঅভ্যুত্থান আইন ২০২৬ পাস: অংশগ্রহণকারীদের সুরক্ষা ও মামলা প্রত্যাহারের বিধান
২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ৭:৩৬ অপরাহ্ণ
ভারতের উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের হুমকির মুখে জাতীয় দলের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় নিরাপত্তা শঙ্কা তৈরি হয়। সেই প্রেক্ষাপটে ভারতে অনুষ্ঠেয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। তবে এ সিদ্ধান্তে অটল থাকায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়।
বাংলাদেশ বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে দেশ-বিদেশে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। এই বিতর্ক আড়াল করতেই সাকিব আল হাসানের প্রসঙ্গ সামনে আনা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিসিবির পরিচালক রফিকুল ইসলাম বাবু।
এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, “আমার কাছে মনে হয়, এটা শাক দিয়ে মাছ ঢাকার মতো ঘটনা। ভারতে এমন কয়েকশো ঘটনা ঘটেছে। সেখানে এরকম কোনো বড় ঘটনা ঘটেছে বলে আমার মনে হয় না। অনেকে প্রতিবাদ করেছে ঠিকই, কিন্তু এতটা সিরিয়াস সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, সেটা আমরা বুঝতে পারিনি।”
তিনি বলেন, “বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার এবং ক্রিকেট বোর্ড যে দ্রুত সিদ্ধান্তটি নিয়েছে, সেটা আরেকটু ভেবে-চিন্তে নেওয়া হলে ভালো হতো।”
আইসিসির স্বাধীন অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থার কথা তুলে ধরে রফিকুল ইসলাম বাবু বলেন, “আইসিসির একটি স্বাধীন নালিশ বোর্ড ও স্বতন্ত্র টিম রয়েছে। তাদের কাছে অভিযোগ জানানো হলে এবং সিদ্ধান্তটা তাদের মাধ্যমেই এলে বাংলাদেশ সেফ সাইডে থাকত। ভারত যা করেছে, সেটা কেউই সমর্থন করে না। তবে এই জায়গায় আমরা ক্রিকেটীয় ডিপ্লোমেসিতে দারুণভাবে ধরা খেয়েছি।”
তিনি আরও বলেন, ক্রিকেট বোর্ড নিজেদের কাঠামোগত ব্যর্থতা ও পরিকল্পনার অভাব আড়াল করতেই সাকিব ইস্যুকে সামনে আনা হচ্ছে। এটি সমস্যার সমাধান নয়, বরং মূল সমস্যা থেকে নজর ঘোরানোর কৌশল।
তবে দেশের ক্রিকেট পুরোপুরি রসাতলে গেছে-এমন গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “হয়তো এই ঘটনাটাকে ধামাচাপা দেওয়ার জন্যই সাকিব ইস্যুকে সামনে আনা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়েছে, তার দেশে ফেরার কোনো সুযোগ নেই, তাকে আইন অনুযায়ী বিষয়টি মোকাবিলা করতে হবে।”
আইসিসির পক্ষ থেকে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে রফিকুল ইসলাম বাবু বলেন, “আমার মনে হয় না আইসিসি বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তি নেবে। অতীতেও অনেক উদাহরণ আছে- বিভিন্ন বিশ্বকাপে বিভিন্ন দেশ অংশ নেয়নি।”
দেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি বলেন, “যদি সত্যিই দেশের ক্রিকেটের স্বার্থে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হয়, তাহলে সব স্টেকহোল্ডারকে একসঙ্গে বসিয়ে সুন্দরভাবে সামনে কীভাবে এগোনো যায়, সেটার পরিকল্পনা করতে হবে। তাহলেই দেশের ক্রিকেটে স্বস্তি ফিরবে এবং মানুষ আবার ভালো ক্রিকেট দেখতে পারবে।”