রাজকীয় সমাপ্তি • বিদায়ের ম্যাচে মেসির জাদু, ৩-০ গোলে বেনিনকে হারাল আর্জেন্টিনা
১২ জানুয়ারী ২০২৬, ৭:৪৫ পূর্বাহ্ণ
জাল দলিলের মাধ্যমে জমি দখলের শিকার হলে আতঙ্কিত না হয়ে ধাপে ধাপে যাচাই-বাছাই করার পরামর্শ দিচ্ছেন ভূমি বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, কোনো একটি জমি যদি একাধিক মালিকের নামে দেখানো হয়, তাহলে প্রাথমিকভাবে দলিলটি জাল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে প্রথমেই সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে প্রকৃত মালিক কে, তা নির্ণয়ের চেষ্টা করতে হবে। পাশাপাশি সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয় থেকে জমিটির মিউটেশন বা নামজারি সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা জরুরি। নামজারিতে ধারাবাহিকতা ঠিক আছে কি না, সেটি সুচারুভাবে যাচাই করতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, সিএস জরিপের খতিয়ানের সঙ্গে বিক্রেতার খতিয়ানে কোনো গরমিল থাকলে সেখানে জটিলতা থাকার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে জরিপ খতিয়ানে উল্লেখিত জমির পরিমাণ পরবর্তী সময়ে যতবার বিক্রি হয়েছে, প্রতিবারের দলিলে সেই পরিমাণের মিল আছে কি না, তা যাচাই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দাগ নম্বর, ঠিকানা ও মৌজার তথ্যও সতর্কতার সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে হবে।
সম্প্রতি করা কোনো আমমোক্তারনামা দলিল থাকলে সেখানে উভয় পক্ষের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে কি না, সেটিও যাচাইয়ের পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। দান করা জমির ক্ষেত্রে দলিল সম্পাদনের তারিখ, কবে গ্রহীতা জমির দখল নিয়েছেন এবং দলিলটি রেজিস্ট্রি করা হয়েছে কি না- এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া জরুরি। একই সঙ্গে দলিলদাতা ও গ্রহীতার পারস্পরিক সম্পর্ক যাচাই করার কথাও বলা হয়েছে।
সহকারী ভূমি কমিশনার আসাদুজ্জামান বিবিসি বাংলাকে বলেন, “সরকার বারবার বলছে, আপনারা কর দেন, জমির সঙ্গে থাকেন। নিজের জমির খোঁজ না রাখলে এ ধরনের ঘটনা ঘটতেই পারে।” তিনি জমির মালিকদের নিজ নিজ জমির বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
এদিকে জমিজমা কেনাবেচার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ। সিআইডির একজন কর্মকর্তা রহমান বিবিসি বাংলাকে বলেন, “যে কোনো কিছু কেনার সময় নির্ভরযোগ্য উৎস বেছে নেওয়া উচিত। কাগজপত্র আসল কি না, তা ভালোভাবে যাচাই করতে হবে। অরিজিনাল কাগজ না হলে এসব লেনদেন এড়িয়ে চলাই নিরাপদ।”
আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি সচেতনতা বাড়িয়েই জালিয়াতি বন্ধ করা সম্ভব বলে মনে করেন ভূমিমন্ত্রী নায়ারণ চন্দ্র চন্দ। তিনি বিবিসি বাংলাকে বলেন, “আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সচেতনতার ওপর জোর দিয়ে আসছি। প্রতি মাসে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেই বৈঠকে চেয়ারম্যানরা যদি মেম্বারদের মাধ্যমে জনগণকে সচেতন করেন, তাহলে জাল দলিলের মতো প্রতারণা অনেকটাই কমানো সম্ভব।”