শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬

চাকরি-বিধিমালা না হওয়ায় ডিএমটিসিএল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সর্বাত্মক কর্মবিরতি শুক্রবার


স্বতন্ত্র চাকরি-বিধিমালা প্রণয়ন না হওয়ায় আগামীকাল শুক্রবার সকাল ৭টা থেকে সর্বাত্মক কর্মবিরতি এবং সব ধরনের যাত্রী সেবা বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) নিয়মিত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। পূর্বঘোষিত আলটিমেটাম অনুযায়ী ৯ ডিসেম্বরের মধ্যে সার্ভিস রুল প্রকাশ না করায় তারা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

১১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১:১৩ অপরাহ্ণ 

চাকরি-বিধিমালা না হওয়ায় ডিএমটিসিএল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সর্বাত্মক কর্মবিরতি শুক্রবার
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) নিয়মিত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা স্বতন্ত্র চাকরি-বিধিমালা প্রণয়ন ও প্রকাশ না হওয়ায় শুক্রবার (১১ ডিসেম্বর) সকাল ৭টা থেকে সর্বাত্মক কর্মবিরতি এবং সব ধরনের যাত্রী সেবা বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) পর্যন্ত চাকরি-বিধিমালা প্রকাশের আলটিমেটাম শেষ হলেও কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নেওয়ায় তারা এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন। বিষয়টি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, কর্মবিরতির পাশাপাশি প্রতিদিন ডিএমটিসিএল প্রধান কার্যালয়ের সামনে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন নিয়মিত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।কর্মচারীরা জানান, ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠার পর ১২ বছর পেরিয়ে গেলেও প্রতিষ্ঠানটির ৯০০-র বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য কোনো স্বতন্ত্র চাকরি-বিধিমালা চূড়ান্ত হয়নি। ২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর মেট্রোরেলের বাণিজ্যিক অপারেশন শুরুর পর থেকে দিন-রাত দায়িত্ব পালন করলেও ছুটি, সিপিএফ, গ্র্যাচুইটি, শিফট-অ্যালাউন্স/ওভারটাইম, গ্রুপ ইনস্যুরেন্সসহ মৌলিক সুবিধা থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছেন।

তাদের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর উপদেষ্টা কমিটি ৬০ কর্মদিবসের মধ্যে সার্ভিস রুল প্রণয়নের নির্দেশনা দিলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি কর্মচারীদের আন্দোলনের মুখে কর্তৃপক্ষ ২০ মার্চের মধ্যে চাকরি-বিধিমালা চূড়ান্ত করার আশ্বাস দেয়। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত না হওয়ায় গত ৯ মাস কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়।সম্প্রতি ১০ ডিসেম্বর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কর্মচারীদের সঙ্গে বৈঠকে জানান, সার্ভিস রুলের সব ধারা নিয়ে পরিচালনা পর্ষদ একমত হলেও ‘বিশেষ বিধান’ সংক্রান্ত একাদশ অধ্যায় চূড়ান্তকরণে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই বিশেষ বিধানটি মেট্রোরেল প্রকল্পসমূহের জনবলকে ডিএমটিসিএলে আত্মীকরণ সংক্রান্ত, যা কর্মচারীদের মতে বাংলাদেশের প্রচলিত আইন ও সুপ্রিম কোর্টের রায়ের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

ডিএমটিসিএল কর্মচারীদের দাবি, পরিচালনা পর্ষদ বিতর্কিত বিধান বাদ দিতে আগ্রহী হলেও কর্তৃপক্ষের চাপের কারণেই সার্ভিস রুল প্রকাশ বিলম্বিত হচ্ছে। তারা বলেন, চাকরি-বিধিমালা ছাড়া তাদের ক্যারিয়ার, বেতন-সুবিধা ও ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত নয়।কর্মচারীরা আরও বলেন, যাত্রী সেবা বন্ধের কারণে কয়েক লাখ মেট্রোরেল ব্যবহারকারী ভোগান্তিতে পড়বেন- এ বিষয়ে তারা দুঃখিত। তবে এর দায় সম্পূর্ণভাবে ডিএমটিসিএল কর্তৃপক্ষকেই নিতে হবে। ‘আর কোনো আশ্বাস নয়, শুধুমাত্র প্রকাশিত সার্ভিস রুলই আমাদের দাবি পূরণের একমাত্র সমাধান,’- যোগ করেন তারা।