জুলাই গণঅভ্যুত্থান আইন ২০২৬ পাস: অংশগ্রহণকারীদের সুরক্ষা ও মামলা প্রত্যাহারের বিধান
২ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১:০৪ পূর্বাহ্ণ
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া একের পর এক চরম আবহাওয়ার মারাত্মক প্রভাবের মুখে। ইন্দোনেশিয়া, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় টানা ঝড়, বন্যা ও ভূমিধসে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ১৪০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও হাজারের কাছাকাছি মানুষ। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া বিস্তীর্ণ এলাকায় উদ্ধার দল পৌঁছাতে না পারায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। খবর—আল জাজিরা।
ইন্দোনেশিয়ায় সবচেয়ে মারাত্মক পরিস্থিতি
সোমবার উত্তর সুমাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো জানান, সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হলো “যত দ্রুত সম্ভব সহায়তা পৌঁছে দেওয়া।” দেশজুড়ে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে কমপক্ষে ৬০৪ জন নিহত এবং ৪৬৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
তিনি জানান, এখনো কয়েকটি গ্রামে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি, তবে হেলিকপ্টার ও বিমান পাঠানো হচ্ছে। গুরুতর পরিস্থিতির কারণে তার ওপর জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণার চাপ বাড়ছে।
যদিও প্রেসিডেন্ট বলেছেন “খারাপ সময় কেটে গেছে”, তবে আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করে জানিয়েছেন—জাকার্তা ও আশপাশে আরও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ, বজ্রঝড় ও ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সরকার ত্রাণ-উদ্ধারে দুইটি হাসপাতাল জাহাজ ও তিনটি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে। বহু সড়ক এখনো অচল। সুমাত্রার সুনগাই নিয়ালো গ্রামে পানি নেমে গেলেও ঘরবাড়ি, যানবাহন ও ফসল এখনো ঘন কাদার নিচে চাপা।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টিটো কারনাভিয়ান স্বীকার করেছেন, এই বিপর্যয়ের মাত্রা মোকাবিলায় সরকার পর্যাপ্ত প্রস্তুত ছিল না।
শ্রীলঙ্কায় ‘ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিপর্যয়’
সাইক্লোন ডিটওয়াহ–র কারণে শ্রীলঙ্কায় বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ৩৬৬ জন নিহত এবং ৩৬৭ জন নিখোঁজ হয়েছেন।
দেশটি আন্তর্জাতিক সাহায্য চাইছে এবং সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার ব্যবহার করে আটকে পড়াদের উদ্ধার করছে।
উত্তর কলম্বোর লুনুভিলায় জরুরি অবতরণকালে বন্যা-দুর্গত এলাকায় ত্রাণ মিশনে থাকা একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হলে পাইলট মারা যান। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মধ্যাঞ্চলের বেশিরভাগ এলাকায় সড়ক পরিষ্কারের পর প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির চিত্র সামনে আসতে শুরু করেছে।
প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিশানায়েকে জরুরি অবস্থা জারি করে বলেন“এটি আমাদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক বিপর্যয়।”
ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও জাপানের উদ্ধারকর্মীরা ইতোমধ্যে উদ্ধার অভিযানে যোগ দিয়েছে। আরও আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে বলে সরকার জানিয়েছে।
থাইল্যান্ডে নিহত ১৭৬, জনরোষ বাড়ছে
থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলে ভয়াবহ বন্যায় কমপক্ষে ১৭৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন। ত্রাণ কার্যক্রম চললেও মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে। ব্যর্থতার অভিযোগে স্থানীয় দুই কর্মকর্তা বরখাস্ত হয়েছেন।
শিশু অধিকার সংগঠন সেভ দ্য চিলড্রেন জানিয়েছে, বন্যার কারণে ৭৬ হাজার শিশু স্কুলে ফিরতে পারছে না।
সঙখলা প্রদেশেই মারা গেছেন ১৩১ জন। ধীরে ধীরে ট্যাপ ওয়াটারের প্রায় ৮০ শতাংশ সরবরাহ আবার চালু হয়েছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।
মালয়েশিয়ায় তিন জনের মৃত্যু
মালয়েশিয়ার পার্লিস প্রদেশে ভারী বর্ষণে সৃষ্ট বন্যায় অন্তত তিন জন মারা গেছেন। দেশটিতেও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধারকর্মীদের কাজ অব্যাহত রয়েছে।
আঞ্চলিক দুর্যোগ—জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে একের পর এক চরম আবহাওয়ার মুখোমুখি হয়েছে। গত নভেম্বরেই ফিলিপাইনের দুই দফা টাইফুনে ২৪২ জন নিহত হন। সুমাত্রায় আঘাত হানা বিরল ট্রপিক্যাল ঝড় ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় বন্যা আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ঝড়ের তীব্রতা ও বর্ষণের হার দ্রুত বাড়ছে।
আন্তর্জাতিক রেড ক্রস–রেড ক্রিসেন্টের এশিয়া-প্যাসিফিক পরিচালক আলেকজান্ডার মেথিও বলেন,দেশগুলোকে এখনই “আরও উন্নত পূর্বাভাসব্যবস্থা, নিরাপদ আশ্রয়, প্রকৃতিভিত্তিক সমাধান এবং দুর্যোগ-সামাজিক সুরক্ষা জোরদার” করতে হবে।