জুলাই গণঅভ্যুত্থান আইন ২০২৬ পাস: অংশগ্রহণকারীদের সুরক্ষা ও মামলা প্রত্যাহারের বিধান
২৯ নভেম্বর ২০২৫, ৮:৫৩ অপরাহ্ণ
সাইক্লোন ‘ডিটওয়াহ’-এর তাণ্ডবে শ্রীলঙ্কায় পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। লাগাতার বৃষ্টি ও বন্যায় দেশজুড়ে মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার (২৯ নভেম্বর) দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র (ডিএমসি) জানায়, এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩২ জনে এবং নিখোঁজ রয়েছেন আরও ১৭৬ জন।
ডিএমসি জানায়, দুর্যোগে প্রায় ১৫ হাজার বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে এবং অন্তত ৪৪ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছে বিভিন্ন অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে। যদিও ঝড়টি ভারতের উত্তরাঞ্চলের দিকে সরে গেছে, তবুও শ্রীলঙ্কায় এর প্রভাব কমেনি। শনিবার ক্যান্ডি জেলায় নতুন করে ভূমিধস হয়, যেখানে প্রধান সড়কের বেশ কিছু অংশ পানির নিচে ডুবে যায়।
ডিএমসি মহাপরিচালক সম্পথ কটুওয়েগোডা জানান, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীর হাজারো সদস্য উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে অংশ নিয়েছে। “এর ফলে ত্রাণ তৎপরতা আরও জোরদার হয়েছে,” বলেন তিনি।
শ্রীলঙ্কা রেড ক্রস সোসাইটির মহাসচিব মাহেশ গুনাসেকারা জানান, বহু মানুষ এখনো বন্যাকবলিত এলাকায় আটকা আছেন, এবং তাদের কাছে পৌঁছাতে উদ্ধারকর্মীরা হিমশিম খাচ্ছেন। “ত্রাণের চাহিদা বাড়ছে। পানি বাড়ছে। ঝড় সরে গেলেও দুর্ভোগ এখনো কাটেনি,” বলেন তিনি।
বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ায় কলম্বো থেকে ভারত মহাসাগরে প্রবাহিত কেলানি নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের দ্রুত সরে যেতে নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার সন্ধ্যায় নদী উপচে পড়লে শত শত মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে বাধ্য হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শ্রীলঙ্কান প্রেসিডেন্ট অনূঢ়া কুমার দিসানায়েকে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা চেয়েছেন। একইসঙ্গে বিদেশে থাকা শ্রীলঙ্কানদেরও নগদ সহায়তা পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তারা জানান, প্রধানমন্ত্রী হারিনি আমারাসুরিয়া বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করে তাদের সরকারগুলোর সহযোগিতা কামনা করেছেন।
ইতোমধ্যে প্রতিবেশী ভারত একাধিক বিমানে করে জরুরি ত্রাণ পাঠিয়েছে। কলম্বোয় অবস্থানরত ভারতীয় নৌবাহিনীর একটি যুদ্ধজাহাজও তার মজুত রসদ ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বিতরণের ঘোষণা দিয়েছে।