রূপের জাদু • শাড়িতে ঐতিহ্য, সাজে আধুনিকতা-মুগ্ধ করলেন পূর্ণিমা।
৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯:৫৬ পূর্বাহ্ণ
টিসিবির সুবিধাভোগী নির্বাচন ও ভর্তুকি মূল্যে পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম চালু করেছে সরকার। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ‘সমগ্র বাংলাদেশে টিসিবির উপকারভোগী নির্বাচন এবং ভর্তুকি/সাশ্রয়ীমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রয় কার্যক্রম বাস্তবায়ন নির্দেশিকা-২০২৬’ জারি করে।
নতুন নির্দেশিকায় টিসিবির ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় কারা আসবেন, তা আগের তুলনায় স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে সাধারণভাবে ‘নিম্ন আয়ের মানুষ’কে সুবিধাভোগী বলা হলেও এবার বিভিন্ন শ্রেণি ও পরিবারের যোগ্যতা আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। নির্দেশিকা অনুযায়ী, হতদরিদ্র পরিবার, নিম্ন আয়ের মানুষ, ভূমিহীন, কৃষিশ্রমিক, দিনমজুর, চা-শ্রমিক, চাতালশ্রমিক, কারখানার শ্রমিক এবং উপার্জনে অক্ষম ব্যক্তিরা টিসিবির কার্ড পাওয়ার যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবেন।
সুবিধাভোগী নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিধবা, তালাকপ্রাপ্ত ও স্বামী পরিত্যক্ত নারীর নেতৃত্বাধীন অসচ্ছল পরিবারকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। পাশাপাশি যেসব দুস্থ পরিবারে শিশু বা প্রতিবন্ধী সদস্য রয়েছেন, সেসব পরিবারও অগ্রাধিকার পাবে। তবে একই পরিবারের একাধিক সদস্যকে টিসিবির সুবিধাভোগী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না। আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন, পৌরসভা অথবা ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
কার্ড পাওয়ার জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), প্রযোজ্য ক্ষেত্রে স্বামী বা স্ত্রীর এনআইডি এবং আবেদনকারীর এনআইডি দিয়ে নিবন্ধিত সচল মোবাইল নম্বর থাকতে হবে।
নির্দেশিকা অনুযায়ী, টিসিবির ফ্যামিলি কার্ডধারী একটি পরিবার নিয়মিতভাবে ২ লিটার ভোজ্যতেল, ২ কেজি মসুর ডাল ও ১ কেজি চিনি পাবে। প্রতি লিটার ভোজ্যতেলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১০০ টাকা, প্রতি কেজি মসুর ডাল ৬০ টাকা এবং চিনি ৭০ টাকা। এ ছাড়া খাদ্য মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে পরিবারপ্রতি ৫ কেজি চালও দেওয়া হবে।
পবিত্র রমজান ও ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের জন্য ভ্রাম্যমাণ ট্রাকসেলের মাধ্যমে পণ্য বিক্রির সুযোগও রাখা হয়েছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে টিসিবি ২ লাখ টন ভোজ্যতেল, ২ লাখ ২০ হাজার টন মসুর ডাল এবং ১ লাখ ১০ হাজার টন চিনি বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।
টিসিবির পণ্য বিতরণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়াতে ডিলারদের জন্যও নতুন শর্ত দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ডিলারকে নিজস্ব দোকানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে। একই সঙ্গে দোকানের সামনে স্পষ্টভাবে পণ্যের মূল্যতালিকা প্রদর্শন করতে হবে।
জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসককে সভাপতি করে মনিটরিং কমিটি গঠন করা হবে। স্থানীয় সংসদ সদস্যরা ওই কমিটিতে উপদেষ্টা হিসেবে থাকবেন। কমিটিতে পুলিশ সুপার, ইউএনও, মেয়র এবং খাদ্য ও সমাজসেবা কর্মকর্তাদেরও রাখা হবে। এ ছাড়া উপজেলা, ইউনিয়ন ও বিক্রয়কেন্দ্র পর্যায়ে কার্যক্রম তদারকিতে ‘ট্যাগ টিম’ কাজ করবে।
সুবিধাভোগীদের তথ্য টিসিবি সেবা অ্যাপের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ডেটাবেইসে সংরক্ষণ করা হবে। এর মাধ্যমে সুবিধাভোগী নির্বাচনে স্বচ্ছতা বাড়ানোর পাশাপাশি একই পরিবারের একাধিক সদস্যের নামে কার্ড থাকার মতো অনিয়ম শনাক্তের সুযোগ থাকবে।
সম্প্রতি অনিয়মের অভিযোগে ভুয়া প্রক্রিয়ায় সংগৃহীত প্রায় ৫৯ লাখ কার্ড বাতিল করা হয়েছে বলে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির জানিয়েছেন। এসব কার্ডের পরিবর্তে নতুন ডিজিটাল ব্যবস্থায় প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কার্ড দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এদিকে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে টিসিবিকে প্রায় ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হলেও চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এর পরিমাণ কমে প্রায় ২ হাজার ৪০০ কোটি টাকা হতে পারে।