মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

‘বাংলাদেশে সংখ্যালঘু বলে কোনো শব্দ নেই, সবাই সমান নাগরিক’:ডিএসসিসি প্রশাসক


বাংলাদেশে ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে সংখ্যালঘু হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। তিনি বলেছেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের সব নাগরিকের অধিকার সমান এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্যের মধ্য দিয়ে সবাইকে একসঙ্গে বসবাস করতে হবে।

২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬:৫৯ অপরাহ্ণ 

‘বাংলাদেশে সংখ্যালঘু বলে কোনো শব্দ নেই, সবাই সমান নাগরিক’:ডিএসসিসি প্রশাসক
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

বাংলাদেশে ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে সংখ্যালঘু হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। তিনি বলেছেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের সব নাগরিকের অধিকার সমান এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্যের মধ্য দিয়ে সবাইকে একসঙ্গে বসবাস করতে হবে।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ওয়ারীতে ঢাকা খ্রিস্টিয়ান কবরস্থানের প্রাচীন সমাধি সংরক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, বাংলাদেশে ‘সংখ্যালঘু’ বলে কোনো শব্দ নেই। দেশের মানুষের পরিচয় বাংলাদেশি এবং প্রত্যেকেই সমান নাগরিক। তিনি বলেন, একজন নাগরিক হিসেবে তাঁর যে অধিকার রয়েছে, অন্য ধর্মের একজন বন্ধুরও একই অধিকার রয়েছে। কোনো ধরনের বিভেদ নয়, বরং সব ধর্মের প্রতি সম্মান দেখিয়ে পারস্পরিক প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রেখে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

আদি ঢাকার ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আবদুস সালাম বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই পুরান ঢাকার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্য ও আগের পরিবেশ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন তিনি। তাঁর ভাষায়, আদি ঢাকাকে ঘিরেই বর্তমানের বিশাল নগরী গড়ে উঠেছে। তাই এ অঞ্চলের ঐতিহাসিক স্থাপনা ও স্মৃতিচিহ্নের গুরুত্ব অনেক। কোনো পুরোনো নিদর্শন যাতে অবহেলা বা অযত্নে নষ্ট না হয়, সে বিষয়ে সিটি করপোরেশন কাজ করবে।

ওয়ারীর ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, একসময় নদীকেন্দ্রিক যোগাযোগ এবং নগর সুবিধার কারণে এলাকাটি ঢাকার অন্যতম অভিজাত আবাসিক এলাকা হিসেবে পরিচিত ছিল। অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তি এ এলাকায় বসবাস করেছেন। ওয়ারীর পাশের বলধা গার্ডেনসহ আশপাশের এলাকার পরিবেশও আগের মতো সুন্দর ও সুশৃঙ্খল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

ঢাকা খ্রিস্টিয়ান কবরস্থানের পরিবেশ ও ঐতিহ্য রক্ষার বিষয়ে প্রশাসক বলেন, কবরস্থানটির শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখতে ডিএসসিসি প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে।

এ জন্য তাৎক্ষণিকভাবে সিটি করপোরেশনের তহবিল থেকে পাঁচ লাখ টাকা অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে আরও অর্থ সহায়তা দেওয়ার আশ্বাসও দেন প্রশাসক। এ ছাড়া কবরস্থান ও আশপাশের এলাকার সড়ক, ড্রেনেজ, আলোকায়ন এবং পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার উন্নয়নে ডিএসসিসির পক্ষ থেকে কাজ জোরদার করা হবে বলে জানান তিনি।

আদি ঢাকার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে আবদুস সালাম বলেন, এলাকার অনেক সড়ক সরু হলেও সেগুলো পরিচ্ছন্ন রাখা এবং পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। এলাকায় শৃঙ্খলা ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা এবং বাসিন্দাদের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে ভাসমান জনগোষ্ঠীর বিষয়টি ব্যবস্থাপনার মধ্যেও আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন ডিএসসিসি প্রশাসক।