কাফরুলে গুলি: অপপ্রচারের অভিযোগ, আব্বাস আলীর সুনাম ক্ষুণ্নের চেষ্টা
২৯ জুলাই ২০২৬, ৭:৫১ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, যুগোপযোগী ও মানসম্মত করতে সরকার, উন্নয়ন সহযোগী, শিক্ষা বিশেষজ্ঞ এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। বক্তারা বলেন, সময়ের চাহিদা অনুযায়ী প্রাথমিক পাঠ্যক্রম সংস্কার এবং দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা নিশ্চিত করা ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।
বুধবার (২৯ জুলাই) রাজধানীতে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ আয়োজিত "বাংলাদেশে প্রাথমিক পাঠ্যক্রম উন্নয়ন: সংস্কার যাত্রার সম্মিলিত পর্যালোচনা" শীর্ষক নীতিনির্ধারণী সেমিনারে এ অভিমত তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে সরকারি প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, দেশি-বিদেশি উন্নয়ন সংস্থা, শিক্ষাবিদ এবং শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, "প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিটি শিশুর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার ভিত্তি। সমাজের পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পাঠ্যক্রমকে সময়োপযোগী, শিশুবান্ধব এবং শিশুদের শেখার পরিবর্তিত চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে। শুধু পাঠ্যবইভিত্তিক জ্ঞান নয়, যুক্তিভিত্তিক চিন্তা, জীবন দক্ষতা ও ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জনের সুযোগও নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও সহশিক্ষা কার্যক্রমকে সমান গুরুত্ব দিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে।"
তিনি আরও বলেন, সরকার, উন্নয়ন সহযোগী এবং শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব।
সেমিনারে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের পক্ষ থেকে "শিশুদের জন্য মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা: আমাদের পথচলা" শীর্ষক একটি উপস্থাপনা তুলে ধরা হয়। পরে বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে প্যানেল আলোচনা ও উন্মুক্ত মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা বলেন, শিশুদের বর্তমান ও ভবিষ্যতের শেখার চাহিদা বিবেচনায় রেখে এমন একটি পাঠ্যক্রম গড়ে তুলতে হবে, যা তাদের মৌলিক শিক্ষা, সৃজনশীলতা, সমালোচনামূলক চিন্তা, যোগাযোগ দক্ষতা এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজনীয় সক্ষমতা অর্জনে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল, দুর্যোগপ্রবণ এলাকা এবং অন্যান্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিশুদের বিশেষ প্রয়োজনকেও পাঠ্যক্রম উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
বক্তারা আরও বলেন, কার্যকর পাঠ্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য শুধু নতুন পাঠ্যক্রম প্রণয়ন যথেষ্ট নয়; এর সঙ্গে শিক্ষক প্রশিক্ষণ, মানসম্মত শিক্ষা উপকরণ, শ্রেণিকক্ষে কার্যকর পাঠদান এবং উপযুক্ত মূল্যায়ন ব্যবস্থার সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে।
প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন ক্যাম্পেইন ফর পপুলার এডুকেশন (ক্যাম্পে)-এর নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধুরী, ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব এডুকেশনাল ডেভেলপমেন্ট (ব্র্যাক আইইডি)-এর প্রোগ্রাম ও গবেষণা প্রধান সৈয়দা সাযিয়া জামান, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম, জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির (ন্যাপ) মহাপরিচালক ফরিদ আহমেদ, ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (এফসিডিও)-এর টিম লিডার (হিউম্যান ক্যাপিটাল) ও শিক্ষা উপদেষ্টা মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া এবং প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর কবিতা বোস।
আলোচনায় আরও গুরুত্ব দেওয়া হয় এমন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, প্রমাণভিত্তিক ও দক্ষতাভিত্তিক পাঠ্যক্রম গড়ে তোলার ওপর, যা শিশুদের প্রয়োজনীয় জ্ঞান, দক্ষতা ও মূল্যবোধ অর্জনে সহায়তা করবে এবং পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে সক্ষম করে তুলবে।
সেমিনারের শেষে সরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, সুশীল সমাজ এবং শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে এবং প্রতিটি শিশুর জন্য মানসম্মত, সমতাভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা নিশ্চিত করতে একযোগে কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।