বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬

২-০ গোলে ফ্রান্সকে বিদায় করে বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেন


এমবাপ্পে-ডেম্বেলে-ওলিসে সমৃদ্ধ ফ্রান্সের আক্রমণভাগকে কার্যত নিষ্ক্রিয় করে দিয়ে ২-০ গোলে জিতেছে স্পেন। লামিন ইয়ামালকে ফাউল করে পাওয়া পেনাল্টি থেকে প্রথম গোল করেন মাইকেল ওয়ারসাবাল, পরে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন পেদ্রো পোরো। এই জয়ে ২০১০ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠল স্পেন।

১৫ জুলাই ২০২৬, ৮:৫৩ পূর্বাহ্ণ 

২-০ গোলে ফ্রান্সকে বিদায় করে বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেন
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে ভয়ংকর আক্রমণভাগ ছিল ফ্রান্সের। কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান ডেম্বেলে ও মাইকেল ওলিসের সমন্বয়ে গড়া আক্রমণ ইউনিট পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই প্রতিপক্ষের জন্য আতঙ্ক হয়ে উঠেছিল। কিন্তু সেমিফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে এসে সেই আক্রমণভাগ যেন পথ হারিয়ে ফেলল।

ডালাসে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত ম্যাচে ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে স্পেন। ইউরো ২০২৪ জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে লা রোজারা ফুটবল ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠল। এর আগে ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে ফাইনালে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে প্রথমবার শিরোপা জিতেছিল স্পেন।

আগামী ১৯ জুলাই ফাইনালে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার সেমিফাইনালের জয়ী দলের মুখোমুখি হবে লামিন ইয়ামাল, রদ্রি ও দানি অলমোদের স্পেন।দুই গোল পিছিয়ে পড়ার পরও ফ্রান্স আক্রমণে ধার বাড়াতে পারেনি। ম্যাচের পরিসংখ্যান বলছে, তারা ৪৯ শতাংশ বলের দখল রেখে গোলের লক্ষ্যে শট নিয়েছে মাত্র চারটি। তবে এর মধ্যে স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমনকে সত্যিকারের পরীক্ষায় ফেলতে পেরেছে মাত্র দুটি শট।

অন্যদিকে স্পেন আক্রমণের সংখ্যা কম হলেও সুযোগ তৈরি করেছে অনেক বেশি পরিষ্কারভাবে। তাদের ১০টি আক্রমণের বেশ কয়েকটিই ছিল গোলের সম্ভাবনাময়।পুরো ম্যাচে স্পেনের “ডাইরেক্ট তিকিতাকা” ফুটবল ছিল চোখে পড়ার মতো। কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের তথাকথিত “ফ্যামিলি ফুটবল” ও পজিশনাল কৌশলের সামনে ফ্রান্সের তারকাবহুল দল কার্যত অসহায় হয়ে পড়ে।

দুই গোলের লিড নেওয়ার পর স্পেন ছোট ছোট পাসে আক্রমণে উঠেছে, আবার প্রয়োজনমতো দীর্ঘ ব্যাক পাসে খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করেছে। এতে বারবার ছন্দ হারিয়েছে ফ্রান্স। মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এমবাপ্পেরা আর ম্যাচে ফেরার পথ খুঁজে পায়নি। শেষ পর্যন্ত বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী আক্রমণভাগকে কার্যত বোতলবন্দী করে স্পেন নিশ্চিত করেছে বিশ্বকাপের ফাইনালের টিকিট।