বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬

শিক্ষাকে আনন্দময় ও কর্মমুখী করতে সরকারের নতুন উদ্যোগ


দেশের নতুন প্রজন্মকে মুখস্থনির্ভর পড়াশোনা থেকে বের করে দক্ষ, চিন্তাশীল ও পরিবেশ-সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে দেশব্যাপী ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে আগামী ২৮ জুন রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় পর্যায়ের ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং’ মহোৎসবের চূড়ান্ত পর্ব এবং একযোগে ২৯ হাজার ৬২১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঁচ কোটি গাছ রোপণের সবুজায়ন মহাযজ্ঞের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) এই যুগান্তকারী উদ্যোগগুলো বাস্তবায়ন করছে।

১৮ জুন ২০২৬, ২:৪৯ অপরাহ্ণ 

শিক্ষাকে আনন্দময় ও কর্মমুখী করতে সরকারের নতুন উদ্যোগ
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

দেশের নতুন প্রজন্মকে মুখস্থনির্ভর পড়াশোনার গণ্ডি থেকে বের করে দক্ষ, চিন্তাশীল এবং পরিবেশ-সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে দেশব্যাপী ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সরকার।

এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল মেধা ও উদ্ভাবনী শক্তি বিকাশে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং’ মহোৎসব। অন্যদিকে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় শিক্ষাঙ্গনে শুরু হতে যাচ্ছে পাঁচ কোটি দেশীয় গাছের চারা রোপণের সবুজায়ন মহাযজ্ঞ।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২৮ জুন রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় পর্যায়ে নির্বাচিত সেরা ১০০টি দলের বিজ্ঞান প্রজেক্ট প্রদর্শনী এবং একযোগে ২৯ হাজার ৬২১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) তাদের ‘এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিম (ইইএসএস)’ এবং ‘লার্নিং অ্যাক্সিলারেশন ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন’ (লেইস) প্রকল্পের মাধ্যমে এই কর্মসূচি দুটি বাস্তবায়ন করছে। ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির সাধারণ ও মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থার সর্বস্তরের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা এই মেগা কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন।

মাউশি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বলেন, "এই কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা শিক্ষার্থীদের মুখস্থনির্ভরতা থেকে বের করে গঠনমূলক সৃজনশীলতা ও বিশ্লেষণধর্মী চিন্তার বিকাশ ঘটাতে চাই। তৃণমূল থেকে উঠে আসা সায়েন্স প্রজেক্ট ও ইনোভেশন আইডিয়াগুলো থেকে স্থানীয় সমস্যা স্থানীয়ভাবেই সমাধান করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় শিক্ষার্থীরাই আগামীতে মূল হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে।"

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে গত ১২ জুন উপজেলা পর্যায়ে এবং ১৪ জুন জেলা পর্যায়ে সফলভাবে শোকেজিং প্রতিযোগিতা সম্পন্ন হয়েছে। জেলা ও মহানগর পর্যায় থেকে নির্বাচিত সেরা ১০০টি দল নিয়ে আগামী ২৭ জুন ঢাকায় চূড়ান্ত মূল্যায়ন পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। পরদিন ২৮ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করবেন এবং বিজয়ী সেরা ১০টি দলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের হাতে ট্রফি, রাষ্ট্রীয় আর্থিক পুরস্কার ও সনদপত্র তুলে দেবেন। পুরস্কার হিসেবে শিক্ষকেরা পাবেন ৩০ হাজার টাকা এবং শিক্ষার্থীরা পাবে ২০ হাজার টাকা।

শুরু হচ্ছে ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচি 

শোকেজিং কর্মসূচির পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের অংশ হিসেবে ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচি শুরু হতে যাচ্ছে। লেইস প্রকল্পের মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরে দেশের স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে পাঁচ কোটি দেশীয় ফলদ, বনজ ও ঔষধি (যেমন- আম, জাম, কাঁঠাল, নিম ও অর্জুন) গাছ লাগানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

আগামী ২৮ জুন দেশের ১৮ হাজার ৯০৭টি বিদ্যালয়, ১ হাজার ৪৪৬টি স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং ৯ হাজার ২৬৮টি মাদ্রাসাসহ মোট ২৯ হাজার ৬২১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে এই কর্মসূচি শুরু হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মূল ক্যাম্পাসে একটি গাছ রোপণ করবেন এবং একই সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে দেশজুড়ে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একযোগে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনের দিন প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ন্যূনতম তিনটি করে গাছ লাগানো হবে।

লেইস প্রকল্পের পরিচালক প্রফেসর মো. আসাদুজ্জামান জানান, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি একযোগে সারাদেশে সম্প্রচার করা হবে। দেশের ১০০টি বিশেষ সেন্টারে সরাসরি ভিডিও কনফারেন্সের ব্যবস্থা থাকবে, যেখানে প্রধানমন্ত্রী চাইলে সরাসরি মাঠপর্যায়ের যেকোনো সেন্টারের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন। প্রযুক্তিগত বিপ্লব ও পরিবেশ সুরক্ষায় সরকারের এই উদ্যোগ দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে একটি বড় মাইলফলক হবে বলে আশা করছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা।