মায়ের প্রতি চরম অবহেলা: সেই যুগ্ম সচিব ছেলেকে ওএসডি
৪ জুন ২০২৬, ৯:১১ পূর্বাহ্ণ
দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময় কারাভোগের পর অবশেষে সব মামলায় জামিন পেয়ে মুক্তি পেয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) সাবেক মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তির পর বুধবার (৩ জুন) রাত সাড়ে ১২টায় তিনি নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকার নিজ বাসভবন ‘চুনকা কুটিরে’ এসে পৌঁছান। দীর্ঘ বন্দিজীবন শেষে ঘরে ফেরার পর আইভী বর্তমান সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার শিরিন আক্তার জানান, বুধবার সন্ধ্যায় সাবেক মেয়র আইভীর জামিনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কারাগারে পৌঁছায়। এরপর আইনি প্রক্রিয়া ও কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে রাত ১০টা ৮ মিনিটে তাঁকে সম্পূর্ণ মুক্তি দেওয়া হয়। আইভীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় দায়ের করা ১২টি মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগেও বহাল থাকায় তাঁর মুক্তিতে আর কোনো আইনি বাধা ছিল না। মুক্তি পাওয়ার পর পরিবারের সদস্যদের সাথে তিনি কারাগার ত্যাগ করেন।
কারা অধিদপ্তরের সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (এআইজি) জান্নাত উল ফরহাদ জামিনের কারিগরি দিক উল্লেখ করে জানান, হাইকোর্টের ক্রিমিনাল মিস নং-১৩৪১২/২৬ এবং নারায়ণগঞ্জের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের স্মারক নং-৭৭৩ অনুযায়ী জামিনের মূল আদেশ কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছায়। পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারের স্মারক নং-১৪৫৭ অনুযায়ী জেলার মোট নয়টি মামলায় তাঁর জামিন নিশ্চিত করা হয়। অন্য কোনো মামলায় আটকাদেশ (ওয়ারেন্ট) না থাকায় তাঁকে নিয়মতান্ত্রিকভাবে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
কারা সূত্র ও মামলাসংক্রান্ত তথ্য থেকে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৯ মে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগের বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার হওয়ার পর আইভীকে কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। চব্বিশের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা ও হত্যাচেষ্টাসহ মোট ১২টি মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে পাঁচটিতে গত বছরের (২০২৫) নভেম্বরে এবং বাকিগুলোতে বিভিন্ন সময়ে হাইকোর্ট জামিন দিলেও রাষ্ট্রপক্ষের স্থগিতাদেশের আবেদনের কারণে তাঁর মুক্তি ঝুলে ছিল। সর্বশেষ প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ হাইকোর্টের দেওয়া সব জামিন আদেশ বহাল রাখলে তাঁর মুক্তির পথ সুগম হয়। এর আগে গত ২৬ এপ্রিল আইভীকে বারবার নতুন মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিটও করা হয়েছিল।
আইভীর প্রধান আইনজীবী অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন বলেন, "আমার মক্কেলের বিরুদ্ধে দায়ের করা প্রতিটি মামলাই সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি এক বছরেরও বেশি সময় বিনাদোষে কারাবন্দি ছিলেন। মহামান্য আপিল বিভাগ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করেছেন।" তিনি আরও যোগ করেন, সেলিনা হায়াৎ আইভী আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব মিথ্যা মামলার আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন এবং আগামীতে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের পরবর্তী নির্বাচনে আবারও অংশ নেবেন।
উল্লেখ্য, ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী ২০০৩ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত তৎকালীন নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার চেয়ারম্যান ও মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন। ২০১১ সালে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) গঠিত হওয়ার পর তিনি টানা তিনবার বিপুল ভোটে মেয়র নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েন। দেশের প্রথম নারী সিটি মেয়র হিসেবে দলমত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের কাছে তাঁর ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে।