খাল-নদী খননের মাধ্যমে ভূমিকম্প মোকাবেলার প্রস্তুতি নিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
২৩ মে ২০২৬, ১০:০২ পূর্বাহ্ণ
ভারতে ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ এখন সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
গত ১৬ মে ভারতে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরুর পর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এই উদ্যোগটি অনলাইনে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। এর ধারাবাহিকতায় পাকিস্তানেও তৈরি হতে শুরু করেছে একই ধাঁচের একাধিক পেজ ও অ্যাকাউন্ট।
পাকিস্তানে ইতোমধ্যে ‘ককরোচ আওয়ামি পার্টি’, ‘ককরোচ আওয়ামি লীগ’ এবং ‘মুত্তাহিদা ককরোচ মুভমেন্ট’সহ বিভিন্ন নামে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম চালু হয়েছে। এসব পেজ নিজেদের তরুণদের রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পরিচয় দিচ্ছে। কিছু পেজে লেখা হচ্ছে- “তরুণদের দ্বারা, তরুণদের জন্য।” আবার কোথাও বলা হচ্ছে, “যাদের সিস্টেম তেলাপোকা মনে করেছিল, তারাই এখন জনগণের কণ্ঠস্বর।”
ভারতের মূল সংগঠনটি তেলাপোকাকে প্রতীক হিসেবে বেছে নিয়েছে এর বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণে। সংগঠনটির ভাষ্য অনুযায়ী, তেলাপোকা সহজে দমন করা যায় না, টিকে থাকার ক্ষমতা প্রবল এবং দ্রুত বিস্তার লাভ করে। এই প্রতীকী বার্তাকেই আন্দোলনের মূল শক্তি হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।
পাকিস্তানের সংস্করণগুলোতেও একই ধরনের লোগো ব্যবহার করা হলেও, দেশটির জাতীয় পতাকার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সবুজ ও সাদা রঙ প্রাধান্য পাচ্ছে। এসব প্ল্যাটফর্ম নিজেদের পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই), পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) এবং পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) মতো প্রচলিত রাজনৈতিক শক্তির বাইরে নতুন বিকল্প হিসেবে উপস্থাপন করছে।
ভারতের ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র প্রতিষ্ঠাতা ৩০ বছর বয়সী অভিজিৎ দীপক। তিনি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী। এর আগে তিনি ভারতের রাজনৈতিক দল আম আদমি পার্টির রাজনৈতিক যোগাযোগ কৌশলবিদ হিসেবে কাজ করেছেন। ইতোমধ্যে এই উদ্যোগের একটি ইশতেহার ও ওয়েবসাইটও চালু করা হয়েছে। তবে পাকিস্তানে আন্দোলনটি এখনো কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত হচ্ছে না। বিভিন্ন কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট নিজেদের মতো করে এর স্থানীয় সংস্করণ তৈরি করছেন।
মূলত ভারতের সুপ্রিম কোর্টে এক শুনানির সময় বিচারপতি সূর্য কান্ত কিছু বেকার যুবককে ‘তেলাপোকা’ ও ‘পরজীবী’ বলে মন্তব্য করার পর সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। পরে তিনি ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, জাল সার্টিফিকেট ব্যবহারকারীদের উদ্দেশ্যেই ওই মন্তব্য করেছিলেন।
যদিও ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ কোনো আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক দল নয়, তবুও যাত্রার এক সপ্তাহের কম সময়ের মধ্যেই ইনস্টাগ্রামে ২ কোটির বেশি অনুসারী অর্জন করে আলোচনায় আসে এই ব্যঙ্গাত্মক উদ্যোগ।