বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬

পাঁচ বছর পর সিরিজ নিয়ে ফিরছেন সাদ, আন্তর্জাতিক উৎসবে নির্বাচিত ‘অ্যানি’


দীর্ঘ পাঁচ বছর বিরতির পর নতুন কাজ নিয়ে পর্দায় ফিরছেন ‘রেহানা মরিয়ম নূর’খ্যাত নির্মাতা আবদুল্লাহ মোহাম্মাদ সাদ। এবার সিনেমা নয়, তিনি নির্মাণ করেছেন সিরিজ ‘অ্যানি’, যা বিশ্বের অন্যতম বড় সিরিজভিত্তিক উৎসব সেরিয়েনক্যাম্প ফেস্টিভ্যাল-এ প্রদর্শনের জন্য নির্বাচিত হয়েছে।

৭ মে ২০২৬, ১১:০১ পূর্বাহ্ণ 

পাঁচ বছর পর সিরিজ নিয়ে ফিরছেন সাদ, আন্তর্জাতিক উৎসবে নির্বাচিত ‘অ্যানি’
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

দীর্ঘ বিরতির পর নতুন কাজ নিয়ে দর্শকের সামনে হাজির হচ্ছেন বাংলাদেশের আলোচিত নির্মাতা আবদুল্লাহ মোহাম্মাদ সাদ। ‘লাইভ ফ্রম ঢাকা’ ও রেহানা মরিয়ম নূর-এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসা পাওয়া এই নির্মাতা এবার নির্মাণ করেছেন সিরিজ ‘অ্যানি’।

বুধবার সিরিজটির নাম ও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেন প্রযোজক এহসানুল হক বাবু। তিনি জানান, সাদের ভাবনা, চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় নির্মিত এই সিরিজটি নির্বাচিত হয়েছে বিশ্বের অন্যতম বড় সিরিজকেন্দ্রিক উৎসব সেরিয়েনক্যাম্প ফেস্টিভ্যাল-এ।

জার্মানির কোলনে আগামী ৯ জুন অনুষ্ঠিতব্য উৎসবটির ‘স্পটলাইট: উইমেন ইন সিরিজ’ বিভাগে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নির্বাচিত ২০টি সিরিজের সঙ্গে প্রদর্শিত হবে ‘অ্যানি’। এটি বাংলাদেশের কোনো সিরিজের জন্য প্রথম বৈশ্বিক সিরিজভিত্তিক উৎসব অংশগ্রহণ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

সিরিজটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন নাজিফা তুষি। এছাড়া অভিনয়ে রয়েছেন ইয়াশ রোহান, সাইমন সাদিক, সারিকা সাবরিন, ফারহানা মিঠু ও নাজাহসহ আরও অনেকে।

ডিস্টোপিয়ান ঘরানার এই সিরিজের গল্পে দেখা যাবে অ্যানি নামের ২৭ বছর বয়সী এক নার্সকে, যে একা হাতে তার পাঁচ ভাইবোনকে বড় করার সংগ্রাম চালিয়ে যায়। এ সময় বাইরের পৃথিবী আক্রান্ত হয় এক অদ্ভুত মহামারিতে, যেখানে সংক্রমিত পুরুষরা নারীদের প্রতি নিয়ন্ত্রণহীন ঘৃণায় উন্মত্ত হয়ে ওঠে। এই “হেইট প্যান্ডেমিক”-এর মধ্যে এক রাতে মুখোশধারী হামলাকারীর নৃশংস হামলার শিকার হয় অ্যানি। সেই সহিংসতার পর তার জীবন বদলে যেতে থাকে। নিজের ভেতরের ক্ষোভ, ভয় ও প্রতিশোধস্পৃহাকে কেন্দ্র করেই এগোতে থাকে সিরিজটির কাহিনি।

নির্মাতার ভাষ্য অনুযায়ী, ‘অ্যানি’ মূলত একটি “চেম্বার ড্রামা”, যেখানে নারী-পুরুষ সম্পর্কের ভেতরের অবিশ্বাস, অসমতা ও সহিংসতার বিষয়গুলো উঠে এসেছে। সাদের আগের কাজগুলোর মতো এখানেও সমাজের গভীর সংকটকে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে তুলে ধরা হয়েছে।

সেরিয়েনক্যাম্প ফেস্টিভ্যাল জার্মানির প্রথম উৎসব, যা সম্পূর্ণভাবে সিরিজ প্রদর্শনের জন্য নিবেদিত। প্রতি বছর এখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নির্বাচিত সিরিজ বড় পর্দায় প্রদর্শিত হয়। আন্তর্জাতিক নির্মাতা, প্রযোজক ও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলোর গুরুত্বপূর্ণ মিলনমেলা হিসেবেও উৎসবটি পরিচিত।

এর আগে ২০১৬ সালে মুক্তি পাওয়া লাইভ ফ্রম ঢাকা ছিল সাদের প্রথম চলচ্চিত্র। ছবিটি সিঙ্গাপুর আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা পরিচালক ও সেরা অভিনেতার পুরস্কার জেতে। পরে এটি রটারডাম ও লোকার্নোর মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক উৎসবেও প্রদর্শিত হয়।

২০২১ সালে মুক্তি পাওয়া রেহানা মরিয়ম নূর বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসে নতুন অধ্যায় তৈরি করে। ছবিটি ফ্রান্সের মর্যাদাপূর্ণ কান চলচ্চিত্র উৎসব-এর ‘আঁ সার্তে রিগা’ বিভাগে নির্বাচিত হয়, যা ছিল অফিসিয়াল সিলেকশনে বাংলাদেশের প্রথম কোনো চলচ্চিত্র। এছাড়া বিশ্বের ১৫টিরও বেশি আন্তর্জাতিক উৎসবে প্রদর্শিত হয় সিনেমাটি।