রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬

৩৬ বছর পর হাইতিকে হারিয়ে বিশ্বমঞ্চে স্কটিশদের জয়


দীর্ঘ ২৮ বছর পর ফুটবল বিশ্বকাপে ফিরেছে স্কটল্যান্ড, তবে বিশ্বমঞ্চে তাদের সবশেষ জয়ের স্বাদ ছিল আরও এক যুগ আগের—দীর্ঘ ৩৬ বছর পূর্বে। অবশেষে ঘুচল সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষা। ৫২ বছর পর বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়া ক্যারিবীয় দেশ হাইতিকে ১-০ গোলে হারিয়ে ঐতিহাসিক জয় তুলে নিয়েছে স্কটিশরা। ম্যাচের ২৮ মিনিটে জন ম্যাকগিনের করা একমাত্র জয়সূচক গোলটি স্কটল্যান্ডকে এনে দেয় পূর্ণ ৩ পয়েন্ট। এই জয়ের মাধ্যমে ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপে প্রথম জয়ের দেখা পেল স্কটল্যান্ড।

১৪ জুন ২০২৬, ১০:০৭ পূর্বাহ্ণ 

৩৬ বছর পর হাইতিকে হারিয়ে বিশ্বমঞ্চে স্কটিশদের জয়
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই রোমাঞ্চ আর রেকর্ডের ভাঙা-গড়া। তেমনি এক আবেঘন ও ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হলো ফুটবল বিশ্ব। দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বমঞ্চে প্রত্যাবর্তন করা স্কটল্যান্ড অবশেষে কাটাল তাদের ৩৬ বছরের জয়খরা। ৫২ বছর পর বিশ্বকাপে সুযোগ পাওয়া হাইতিকে ১-০ গোলে হারিয়ে উল্লাসে মেতেছে স্কটিশ শিবির। ১৯৯০ বিশ্বকাপে সুইডেনকে হারানোর পর এটিই বিশ্বমঞ্চে স্কটল্যান্ডের প্রথম জয়।

ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে। তবে ম্যাচের ২৮তম মিনিটে প্রথম ডেডলক ভাঙে স্কটল্যান্ড। মাঠের বাম দিক থেকে চে অ্যাডামস একক গতিতে হাইতির রক্ষণভাগকে এলোমেলো করে দিয়ে ডি-বক্সের ভেতর একটি চমৎকার নিচু ক্রস বাড়ান। সেখানে ওত পেতে থাকা মিডফিল্ডার জন ম্যাকগিন নিখুঁত শটে বল হাইতির জালে জড়িয়ে দেন। এই গোলের মাধ্যমে ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে প্রথম গোলের দেখাও পায় স্কটল্যান্ড।

গোল হজম করার পর মরিয়া হয়ে আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়ে হাইতি। ম্যাচের ৩৪ মিনিটে হাইতির ফরোয়ার্ড প্রভিডেন্স বাম দিক থেকে কাট-ইন করে জোরালো শট নেন। স্কটিশ গোলরক্ষক গান বলের নিয়ন্ত্রণ সঠিকভাবে নিতে না পারায় বিপদ তৈরি হয়েছিল, তবে ডিফেন্ডার হেন্ড্রি সঠিক সময়ে বল ক্লিয়ার করে দলকে রক্ষা করেন। এর ঠিক তিন মিনিট পর আবারও সুযোগ পায় হাইতি। মিডফিল্ডে ম্যাকগিনের কাছ থেকে বল কেড়ে নেন বেলেগার্দে। সেখান থেকে প্রভিডেন্স শট নেওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে হিকি দুর্দান্ত স্লাইডে বিপদ কাটান। ফলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় স্কটল্যান্ড।

দ্বিতীয়ার্ধেও সমতায় ফিরতে হাইতির আক্রমণের চাপ অব্যাহত থাকে। তবে স্কটল্যান্ডও ব্যবধান বাড়ানোর বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করে। ম্যাচের ৭০ মিনিটে স্কটল্যান্ডের সামনে ব্যবধান দ্বিগুণ করার সবচেয়ে সহজ সুযোগটি আসে। ডি-বক্সের ভেতর সম্পূর্ণ ফাঁকা জায়গায় বল পেয়েও শট পোস্টের বাইরে মারেন প্রথমার্ধের গোলদাতা জন ম্যাকগিন।

ম্যাচের শেষ দিকে সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করে হাইতি। ৮০ মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে আসা একটি চমৎকার ক্রসে প্রায় ফাঁকা জায়গায় দাঁড়িয়ে হেড করেন হাইতির পিয়েরো। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তার হেডারটি পোস্ট ঘেঁষে বাইরে চলে গেলে সমতায় ফেরা হয়নি ক্যারিবীয় দলটির। শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলের লিড ধরে রেখে রেফারির শেষ বাঁশির সাথে সাথে ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করে স্কটল্যান্ড।

১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপে খেললেও কোনো জয় না পেয়ে খালি হাতে ফিরতে হয়েছিল স্কটল্যান্ডকে। অবশেষে দীর্ঘ আক্ষেপ ঘুচিয়ে ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপের মঞ্চে জয়ের হাসি হাসল স্কটিশরা।