কন্যাসন্তানের বাবা-মা হলেন শাকিব-বুবলী
৭ জুন ২০২৬, ৯:০০ পূর্বাহ্ণ
“মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমি কোনো শিল্পী হিসেবে আপনাকে কিছু বলছি না। এটা আমার দাবি। আপনার বাবার সঙ্গে ’৭৯-তে আমি খাল কেটেছি। তখন আমি স্কুলের ছাত্র। সেই দাবি নিয়ে বলছি। আমি বাংলাদেশে প্রায় সব নায়কের বাবার চরিত্রে অভিনয় করেছি। আমি আজ এক বছর ধরে অসুস্থ।”-কান্নাজড়িত কণ্ঠে এবং ভাঙা গলায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্দেশে এভাবেই নিজের শেষ ইচ্ছা প্রকাশ করলেন প্রবীণ অভিনেতা কাজী উজ্জ্বল।
বেশ কিছুদিন ধরে নানা রকম শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন এই গুণী শিল্পী। কয়েক দফা হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা বেশ সংকটাপন্ন। এই অবস্থায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তাঁর একটি ভিডিও বার্তা সব মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যেখানে অনেক অভাবী বা অসুস্থ শিল্পী সরকারের কাছে আর্থিক অনুদান চেয়ে থাকেন, সেখানে কাজী উজ্জ্বল সম্পূর্ণ ভিন্ন ধারার এক নজির স্থাপন করলেন।
ভিডিওতে আবেগাপ্লুত হয়ে কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, “মৃত্যুর পূর্বে আমি কোনো সাহায্য চাই না। আমার মনে একটাই আশা, আমাকে ১০০টি হাইব্রিড জাতের নারকেলগাছের ব্যবস্থা করে দেবেন। জনগণের জন্য। মরার আগে আমি ১০০টি গাছ লাগাতে চাই। পৃথিবীর কাছে ঋণ শোধ করব।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর নেটিজেন ও অনুসারীদের প্রশংসায় ভাসছেন এই অভিনেতা। অনেকেই মন্তব্য করছেন, নিজের সংকটের কথা চিন্তা না করে পরিবেশ রক্ষা ও জনগণের কল্যাণে গাছ লাগানোর এই মহৎ ইচ্ছা প্রকাশ করে কাজী উজ্জ্বল সমাজের জন্য একটি দারুণ ও ব্যতিক্রমী বার্তা দিয়েছেন।
অভিনয় জগতে আসার আগে কাজী উজ্জ্বল শিল্প মন্ত্রণালয়ে একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তবে অভিনয়ের প্রতি গভীর ভালোবাসার টানে আশির দশকে সেই নিশ্চিত চাকরি ছেড়ে তিনি থিয়েটারে যোগ দেন। ১৯৮৫ সালে প্রখ্যাত নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদের হাত ধরে মঞ্চনাটকে তাঁর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। এরপর নব্বইয়ের দশকের শুরুতে বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) প্রচারিত ‘সুপ্রভাত ঢাকা’ নাটকে দুর্দান্ত অভিনয় করে সাধারণ দর্শকের নজরে আসেন।
দীর্ঘ চার দশকের অভিনয় জীবনে তিনি প্রায় পাঁচ থেকে ছয় শ টেলিভিশন নাটকে অভিনয় করেছেন। ছোট পর্দার পাশাপাশি বড় পর্দাতেও তিনি নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। প্রখ্যাত পরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন পরিচালিত ‘দরিয়া পাড়ের দৌলতী’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে সিনেমা জগতে তাঁর অভিষেক ঘটে। পরবর্তীতে আরও প্রায় ১৫টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করে দেশের নাটক ও চলচ্চিত্রাঙ্গনে নিজের এক স্বতন্ত্র ও মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেন এই গুণী শিল্পী। বর্তমানে তাঁর এই অসুস্থতার দিনে তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করছেন নাট্যপাড়া ও তাঁর ভক্তকূল।