সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬

কুরাসাওকে ৭-১ গোলের বন্যায় ভাসিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করলো জার্মানি


বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই ৭-১ গোলের সেই বিখ্যাত স্কোরলাইন ফিরিয়ে আনলো জার্মানি। ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে ব্রাজিলকে যে দুঃস্বপ্ন উপহার দিয়েছিল চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা, ২০২৬ বিশ্বকাপে নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে ঠিক একই ভাগ্যবরণ করতে হলো নবাগত কুরাসাওকে। হিউস্টনের স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত গ্রুপ ‘ই’-এর ম্যাচে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের আক্রমণের তোড়ে স্রেফ ভেসে গেছে ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসের সবচেয়ে ছোট দেশটি। বড় ব্যবধানের জয় দিয়ে জার্মানি যেমন শিরোপার জোরালো বার্তা দিয়ে রাখলো, তেমনি বড় হার সত্ত্বেও গোল করে নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে নতুন এক রূপকথা লিখলো কুরাসাও।

১৫ জুন ২০২৬, ৮:৩৪ পূর্বাহ্ণ 

কুরাসাওকে ৭-১ গোলের বন্যায় ভাসিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করলো জার্মানি
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

হিউস্টন স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে খেলতে থাকে হুলিয়ান নাগলসম্যানের শিষ্যরা। ম্যাচের মাত্র ৬ষ্ঠ মিনিটেই ফ্লোরিয়ান উইর্টজের সাথে চমৎকার এক ওয়ান-টু-ওয়ান পাসের সুবাদে বল পেয়ে লক্ষ্যভেদ করেন জার্মান মিডফিল্ডার ফেলিক্স এনমেচা। এটি চলতি বিশ্বকাপের দ্রুততম গোল।

তবে শুরুর ধাক্কা সামলে রূপকথার জন্ম দেয় ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে আয়তন ও জনসংখ্যার বিচারে সবচেয়ে ছোট দেশ কুরাসাও। ম্যাচের ২১তম মিনিটে লিভানো কোমেনেনসিয়ার একটি ডিফ্লেক্টেড শট পরাস্ত করে কিংবদন্তি জার্মান গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়ারকে। এই গোলের সাথে সাথেই গ্যালারিতে থাকা কুরাসাও সমর্থকদের উল্লাসে ফেটে পড়ে, কারণ এটিই ছিল বিশ্বকাপ ইতিহাসে ছোট্ট এই দ্বীপরাষ্ট্রটির প্রথম গোল।

কুরাসাওয়ের এই সমতার আনন্দ অবশ্য বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেয়নি জার্মানি। ৩৮তম মিনিটে নাথানিয়েল ব্রাউনের সহায়তায় নিকো শ্লোটারবেকের দুর্দান্ত হেডার জার্মানিকে আবারও ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে নেয়। এরপর প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে (৪৫+৪ মিনিট) পেনাল্টি থেকে ঠাণ্ডা মাথার ফিনিশিংয়ে ব্যবধান ৩-১ করেন ফরোয়ার্ড কাই হাভার্টজ।

বিরতির পর আক্রমণের ধার আরও বাড়িয়ে দেয় চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। দ্বিতীয়য়ার্ধের খেলা শুরু হতে না হতেই (৪৬ মিনিটে) একক নৈপুণ্যে ডিফেন্ডারদের পরাস্ত করে দলের চতুর্থ গোলটি করেন তরুণ তুর্কি জামাল মুসিয়ালা। এরপর ৬৭তম মিনিটে নিজের বিশ্বকাপ অভিষেকেই দুর্দান্ত এক ভলিতে পঞ্চম গোলটি যোগ করেন ডিফেন্ডার নাথানিয়েল ব্রাউন।

ম্যাচের শেষভাগে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে নামা ডেনিজ উনদাভ মাঠের চিত্র পুরোপুরি বদলে দেন। ৭৭তম মিনিটে তিনি দলের ষষ্ঠ গোলটি করার পাশাপাশি আরও দুটি অ্যাসিস্ট করেন। অবশেষে ৮৭তম মিনিটে উনদাভের পাস থেকেই নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে জার্মানির ৭-১ গোলের বিশাল ও ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করেন কাই হাভার্টজ।

ম্যাচে জার্মানির কাছে বড় ব্যবধানে হারলেও ইতিহাস গড়েছে কুরাসাও। ৭৮ বছর বয়সী প্রবীণ ডাচ কোচ ডিক অ্যাডভোকেটের অধীনে দলটির লড়াই প্রশংসা কুড়িয়েছে ফুটবল বিশ্বের। ম্যাচ শেষে কুরাসাও কোচ গর্ব প্রকাশ করে বলেন, “জার্মানি অনেক শক্তিশালী দল ছিল। এই ফলের পরও আমাদের সমর্থক ও খেলোয়াড়দের আনন্দ দারুণ ছিল। এটি কোনো লজ্জার বিষয় নয়, আমরা নিজেদের নিয়ে গর্ব করতে পারি।”