শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬

স্বস্তির বৃষ্টির সঙ্গে বাড়ছে বজ্রপাতের ঝুঁকি: নিরাপদ থাকতে জরুরি সতর্কতা


দেশে সাম্প্রতিক সময়ে বজ্রপাতে হতাহতের ঘটনা বাড়ছে। বিশেষ করে বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে কালবৈশাখী ঝড়ের সঙ্গে বজ্রপাতের প্রবণতা তীব্র হয়। এ পরিস্থিতিতে জীবন রক্ষায় সচেতনতা ও সঠিক করণীয় জানা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

১ মে ২০২৬, ৮:৫৮ পূর্বাহ্ণ 

স্বস্তির বৃষ্টির সঙ্গে বাড়ছে বজ্রপাতের ঝুঁকি: নিরাপদ থাকতে জরুরি সতর্কতা
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

গ্রীষ্মের দাবদাহের পর শুরু হওয়া বৃষ্টি মানুষের মাঝে স্বস্তি এনে দিলেও এর সঙ্গে দেখা দিচ্ছে আরেক বড় বিপদ-বজ্রপাত। বাংলাদেশে সাধারণত মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসে বজ্রঝড়ের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি থাকে। এই সময় প্রায় প্রতিদিনই বজ্রপাতে হতাহতের ঘটনা শোনা যায়, যা জনজীবনে উদ্বেগ তৈরি করছে।

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বজ্রপাতের তীব্রতা ও ঘনত্ব আগের তুলনায় বেড়েছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে খোলা মাঠে কাজ করা মানুষ, জেলে ও পথচারীরা বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।

বজ্রপাত থেকে নিরাপদ থাকতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, বজ্রপাত শুরু হলে কোনোভাবেই খোলা বা উঁচু স্থানে থাকা উচিত নয়। সবচেয়ে নিরাপদ হচ্ছে পাকা দালানের নিচে আশ্রয় নেওয়া, তবে টিনের ছাউনি এড়িয়ে চলা ভালো। এছাড়া উঁচু গাছ, বিদ্যুতের খুঁটি বা লাইনের কাছাকাছি থাকা ঝুঁকিপূর্ণ। বজ্রপাতের সময় এসব স্থানে আঘাত হানার সম্ভাবনা বেশি থাকে। ঘরের ভেতরে থাকলেও জানালা থেকে দূরে থাকা এবং জানালা বন্ধ রাখা জরুরি।

বাড়ির ভেতরে ধাতব বস্তু যেমন-কল, পাইপ, সিঁড়ির রেলিং স্পর্শ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে টিভি, ফ্রিজসহ বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার থেকে বিরত থাকা এবং সম্ভব হলে আগেই প্লাগ খুলে রাখা নিরাপদ।

গাড়ির ভেতরে থাকলে ধাতব অংশ স্পর্শ না করা এবং নিরাপদ ছাউনির নিচে আশ্রয় নেওয়া উচিত। বজ্রপাতের সময় খালি পায়ে থাকা বিপজ্জনক, তাই রবারের জুতা পরা নিরাপদ বলে জানান বিশেষজ্ঞরা। খোলা মাঠ বা ধানক্ষেতে থাকলে দ্রুত নিচু হয়ে বসে পড়তে হবে এবং উঁচু স্থান থেকে নেমে আসতে হবে। একইভাবে, পানি বিদ্যুৎ পরিবাহী হওয়ায় পুকুর বা জলাবদ্ধ স্থান থেকে দ্রুত সরে আসা জরুরি।

বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, বজ্রপাতে আহত ব্যক্তিকে স্পর্শ করলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে না। তাই দেরি না করে তাকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা উচিত। জনসচেতনতা বাড়ানো এবং এসব নির্দেশনা মেনে চলাই পারে বজ্রপাতের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণহানি কমাতে-এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।