রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬

প্রাথমিকের ২ কোটি শিক্ষার্থীর জন্য উন্নত ‘মিড-ডে মিল’ পরিকল্পনা


দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ২ কোটি শিক্ষার্থীর জন্য পর্যায়ক্রমে পুষ্টিকর ও দীর্ঘসময় সংরক্ষণযোগ্য মিড-ডে মিল চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার। এ জন্য আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর গবেষণায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

২৫ এপ্রিল ২০২৬, ৯:৩৭ অপরাহ্ণ 

প্রাথমিকের ২ কোটি শিক্ষার্থীর জন্য উন্নত ‘মিড-ডে মিল’ পরিকল্পনা
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে সরকার। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ২ কোটি শিক্ষার্থীর জন্য ধাপে ধাপে উন্নতমানের টিফিন বা ‘মিড-ডে মিল’ চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেনে ‘দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড’ অডিটোরিয়ামে বায়োটেড আয়োজিত ‘ফ্রম জিনোম টু বায়োইকোনমি: ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের বায়োটেকনোলজি সক্ষমতা বৃদ্ধি’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ তথ্য জানান।

মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি হচ্ছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ‘মিড-ডে মিল’ নিশ্চিত করা। বর্তমানে টিফিন হিসেবে বাটার বন বা কলার মতো খাবার দেওয়া হলেও সেগুলো দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। এই সমস্যা সমাধানে এমন খাবার তৈরি করতে গবেষণা ও উন্নয়ন প্রয়োজন, যা পুষ্টিগুণসম্পন্ন, সাশ্রয়ী এবং দীর্ঘসময় সংরক্ষণযোগ্য।

তিনি আরও বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় তৈরি এসব খাবার শিশুদের সঠিক সময়ে পুষ্টি নিশ্চিত করবে এবং খাদ্য অপচয় কমাতে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারেও ভূমিকা রাখবে।

শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, প্রচলিত ব্যবস্থায় উচ্চতর ডিগ্রি থাকলেও ব্যবহারিক দক্ষতার ঘাটতি রয়েছে। তাই পাঠ্যক্রম এমনভাবে সাজাতে হবে, যাতে তরুণ প্রজন্ম ট্রান্সফারেবল ও টেকনিক্যাল স্কিল অর্জন করতে পারে। তিনি শিল্প ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তার মতে, ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া কোলাবোরেশন জোরদার করা গেলে বায়োটেকনোলজির মতো সম্ভাবনাময় খাতে তরুণদের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি সম্ভব।

মাহদী আমিন বলেন, মানুষের পাশাপাশি গবাদিপশুর ভ্যাকসিন উৎপাদনেও দেশকে স্বনির্ভর হতে হবে। আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে পারলে জীবনরক্ষাকারী ওষুধ এবং ক্যান্সার গবেষণায় বড় অগ্রগতি সম্ভব হবে।

খাদ্য নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ভোজ্যতেল ও চিনির মতো পণ্যে স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে বিটরুট ও সরিষার উৎপাদন বাড়াতে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। বিদেশে অবস্থানরত দেশীয় মেধাবীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ব্রেন ড্রেন’ বন্ধ করে ‘ব্রেন সার্কুলেশন’ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। প্রবাসী গবেষক ও একাডেমিকদের জয়েন্ট রিসার্চ ও স্বল্পমেয়াদি কোর্সের মাধ্যমে দেশের গবেষণা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

উপদেষ্টা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সরকারের দৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং প্রধানমন্ত্রীর সময়োপযোগী দিকনির্দেশনায় বায়োটেকনোলজির যথাযথ ব্যবহার দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং ক্ষমতায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতের উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, বায়োটেডের নির্বাহী পরিচালক ড. মুহাম্মদ সৌগাতুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ ও নীতিনির্ধারকরা উপস্থিত ছিলেন।