মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬

দেশের ৬ হাজার ৯৯৫টি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ: ইলেকশন অবজার্ভার সোসাইটি


আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সারা দেশের ৪২ হাজারের বেশি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৬ হাজার ৯৯৫টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে নির্বাচন কমিশন নিবন্ধিত স্থানীয় পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর সর্ববৃহৎ জোট ইলেকশন অবজার্ভার সোসাইটি (ইওএস)। শুক্রবার বিকেলে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি এ তথ্য প্রকাশ করে।

৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯:২২ অপরাহ্ণ 

দেশের ৬ হাজার ৯৯৫টি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ: ইলেকশন অবজার্ভার সোসাইটি
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

নির্বাচন কমিশন কতৃক নিবন্ধিত স্থানীয় পর্যবেক্ষক সংস্থা সমুহের সর্ববৃহৎ জোট ইলেকশন অবজার্ভার সোসাইটি (ইওএস) আজ বিকাল ৩ টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে প্রেস কনফারেন্সের মাধ্যমে সারা দেশে নিয়োজিত পর্যবেক্ষক হইতে প্রাপ্ত তথ্য ও নির্বাচনী পরিবেশ সংক্রান্ত তথ্য উপাত্ত উপস্থাপন করেন। তারা জানান দেশব্যাপী ৪২ হাজার কেন্দ্রের মধ্যে ৬৯৯৫ টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ এবং ঢাকা জেলায় ১০৩ টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ বলে তাদের পর্যবেক্ষক মারফত জানতে পেরেছেন।

দেশের অধিকাংশ ভোটারই ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে উদগ্রীব হয়ে আছেন। কিন্তু বিভিন্ন প্রোপাগান্ডায় নির্বাচন নিয়ে এখনো কিছুটা সংশয় বিরাজ করছে। ইতোমধ্যেই ই ও এস পর্যবেক্ষকদের প্রশিক্ষণ কার্য্য সমাপ্ত করেছে। এবারেই প্রথমবারের মত সম্পূর্ণভাবে ভলান্টারি পদ্ধতিতে পর্যবেক্ষকরা কাজ করতে যাচ্ছে কোন প্রকার আর্থিক সহায়তা ছাড়াই। নির্বাচন কেন্দ্রীক সরকারি দপ্তর গুলো বিস্তর খরচ করলেও আমাদের ৫৫০০০ পর্যবেক্ষকদের ৩ দিনের সামান্য খাবার আর যাতায়াত খরচের বেলায় আমাদের নিবন্ধিত সংস্থাগুলোর পুন: পুন: আহবানে তারা সাড়া দেয়নি। 

সংস্থাপ্রধানেরা পুরো অর্ধবেলা কমিশনের সামনে মানব বন্ধন কর্মসূচি পালন করলেও কতৃপক্ষ আলোচনার জন্য কিংবা দাবীদাওয়া শোনার জন্য কোন প্রতিনিধি প্রেরণ করেনি। এমনকি স্মারক লিপিটা পর্যন্ত তারা রাখেনি অথচ বিভিন্ন দলগোষ্ঠীর সাথে তাদের ম্যারাথন মিটিং সারাদিনই চলে। তাদের এহেন আচরণে ইওএস এর সকল সংস্থা তাদের সকল পর্যবেক্ষক প্রত্যাহার করে নেয়ার সম্মিলিত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছিলো কিন্তু দেশব্যাপী সাধারণ মানুষদের আসন্ন নির্বাচন কেন্দ্রীক ভাবনা এবং দেশের নাগরিক হিসেবে স্থিতিশীলতার স্বার্থে আমরা এখন পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করছিনা।

কমিশন থেকে পর্যবেক্ষক পরিচয়পত্র একবার অনলাইন একবার অফলাইন করার মাধ্যমে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। যদিও শেষতক অফলাইনে নির্বাচন কমিশন সর্বাত্মক সহযোগিতা করে যাচ্ছে কিন্তু স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন জেলায় আমাদের পর্যবেক্ষকরা পর্যবেক্ষক পরিচয়পত্র পেতে বিরম্বনার শিকার হচ্ছে। ইতোমধ্যেই বিভিন্ন গণমাধ্যম পর্যবেক্ষণ সংস্থাসমুহের সক্ষমতা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যেটা সাধুবাদ পাবার যোগ্য। পাশাপাশি গণমাধ্যমের প্রতি অনুরোধ এই ৫৫০০০ পর্যবেক্ষকের থাকা খাওয়ার অর্থায়ন কিভাবে হবে?  এর সংস্থান কমিশনের করা উচিৎ কিনা সেটা নিয়েও আপনাদের কলম সোচ্ছার থাকুক। 

আমরা এবার সুপরিকল্পিত প্রস্তুতি নিয়ে ৩০০ আসনেই পর্যবেক্ষক মোতায়েন করেছি। দেখতে বিশাল মনে হলেও ৫৫০০০ পর্যবেক্ষক মোতায়েন করা হয়েছে ৪২০০০+ কেন্দ্রের বিপরীতে, ফলে দিনশেষে দেখা যাচ্ছে এক কেন্দ্রে দুইজনের চেয়েও কম সংখ্যক পর্যবেক্ষক মোতায়েন করা হয়েছে। আমরা দেশবাসীর কাছে একটা স্বচ্ছ,সুন্দর, নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষণ রিপোর্ট উপস্থাপন করতে অংগীকারাবদ্ধ। 

সংবাদ সম্মেলনে তথ্য উপাত্ত এবং মুল বক্তব্য উপ্সথাপন করেন ই ও এস সভাপতি মো: ইকবাল হোসেন হীরা। এসময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের প্রধান সমন্বয়কারী শহীদুল ইসলাম আপ্পি, সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন আমীন, সিনিয়র সহ সভাপতি ফেরদৌস আহমেদ, সহ সভাপতি বশির আহমেদ সহ কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ।