২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে ৬৮ বছর পর একই দিনে সব ম্যাচ ড্র
২৪ মে ২০২৬, ৮:০৬ অপরাহ্ণ
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কবির চির-অম্লান স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও অনিঃশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ রোববার (২৪ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি কবির বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।
ফেসবুক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "পরাধীন, পর্যুদস্ত, পরাভূত জাতির ভাগ্যাকাশে তাঁর আবির্ভাব ছিল আলোকবর্তিকার মতো, দিকনির্দেশক বাতিঘরের মতো। মুমূর্ষু জাতিকে জাগিয়ে দিয়ে সামগ্রিকভাবে সচেতন ও স্বয়ংসম্পূর্ণ করার জন্য যে সর্বপ্লাবী প্রতিভার দরকার ছিল, জাতীয় কবি ছিলেন সেই প্রার্থিত ও বহু কাঙ্ক্ষিত প্রতিভা।"
কাজী নজরুল ইসলামের জীবন ও কর্মের ওপর আলোকপাত করে প্রধানমন্ত্রী লিখেন, কবির পুরো জীবনটাই ছিল এক অনন্যসাধারণ বিদ্রোহ। এই বিদ্রোহ ছিল ঔপনিবেশিক শাসন, পরাধীনতা, জুলুম, নির্যাতন, শোষণ, অসাম্য, বৈষম্য, কুসংস্কার ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে; তথা সকল অন্যায়, অবিচার ও অসুন্দরের বিরুদ্ধে।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বার্তায় আরও উল্লেখ করেন, মানুষ, মানবতা, স্বাধীনতা, শোষণমুক্ত সমাজ ও নারীমুক্তির জন্য নজরুলের চেয়ে শিল্পসফল শব্দ আর কেউ রচনা করেননি। তিনিই উপমহাদেশের প্রথম কবি, সাংবাদিক ও রাজনীতিক-যিনি ঔপনিবেশিক পরাধীনতার বিরুদ্ধে পূর্ণ স্বাধীনতা দাবি করেছিলেন। জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও গোত্র নির্বিশেষে মানুষের প্রতি তাঁর দরদ ছিল তুলনাহীন।
আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আমাদের মুক্তিযুদ্ধে ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তাঁর কবিতা ও গান যেমন ছিল অনুপ্রেরণার প্রবল উৎস, তেমনই আমাদের সকল আন্দোলন-সংগ্রামে তাঁর সৃষ্টিশীলতাই হয়ে ওঠে প্রতিবাদ প্রতিরোধের মূল ভাষা। তিনি আমাদের যাপিত জীবনের অনিবার্য অংশ।"
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর পোস্টের শেষাংশে বলেন, বাংলাদেশ ও কাজী নজরুল ইসলাম এক অবিভাজ্য সত্তা। তিনি বাংলাদেশের জাতীয় কবি হয়েও সারা পৃথিবীর নিঃস্ব, রিক্ত ও মজলুম মানুষের আত্মার আত্মীয়। জাতীয় কবির জন্মদিনে অন্যায়, অবিচার, ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও বিভেদের গ্লানি মুছে ফেলে সুখী-সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক মাতৃভূমি গড়তে নিজেদের নিবেদিত করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।