বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

নিয়োগ-বদলি ও কেনাকাটায় অনিয়মের অভিযোগ: আসিফ মাহমুদসহ চারজনের নথি চাইল দুদক


যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ, বদলি, পদায়ন ও কেনাকাটায় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়াসহ চারজনের সংশ্লিষ্ট সব নথিপত্র চেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আগামী ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাগজপত্র সরবরাহ করতে মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯:০৫ অপরাহ্ণ 

নিয়োগ-বদলি ও কেনাকাটায় অনিয়মের অভিযোগ: আসিফ মাহমুদসহ চারজনের নথি চাইল দুদক
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ, বদলি, পদায়ন ও কেনাকাটায় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়াসহ চারজনের সংশ্লিষ্ট সব নথিপত্র চেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

অভিযোগ ওঠা অন্য তিনজন হলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্ম সচিব শেখ মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন এবং উপসচিব মো. মাসুম আহমেদ।

দুদকের উপপরিচালক ও অনুসন্ধান কর্মকর্তা মো. আবুল হাসনাতের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানা গেছে। বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো ওই চিঠিতে আগামী ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে চাওয়া নথিপত্র ও প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করতে বলা হয়েছে। চিঠিতে মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ে নিয়োগ, বদলি ও পদায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি চারজনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাগজপত্র সরবরাহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার দায়িত্ব পালনকালে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ, বদলি, পদায়ন ও কেনাকাটাসংক্রান্ত বিভিন্ন নথিপত্রও চেয়েছে দুদক। এ ছাড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থায় নিয়োগ এবং পদায়নসংক্রান্ত তথ্য দিতে বলা হয়েছে।

মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা বিভিন্ন স্মারক ও আদেশের নথিও চেয়েছে সংস্থাটি। এর মধ্যে ২০২৫ সালের ৭ মে এবং ২০২৬ সালের ১৮ এপ্রিল জারি করা দুটি স্মারক বিশেষভাবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর আগে বুধবার অভিযোগগুলো অনুসন্ধানের জন্য চার সদস্যের একটি বিশেষ টিম গঠন করে দুদক। সংস্থাটির প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. জাহিদ কালামের নেতৃত্বে গঠিত এই টিমকে অভিযোগগুলোর অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

দুদক সূত্র জানায়, সাবেক উপদেষ্টা, মন্ত্রণালয়ের সচিব ও দুই পদস্থ কর্মকর্তাসহ মোট ১৬ জনের বিরুদ্ধে গত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ সম্প্রতি কমিশনে জমা পড়ে।

পরে দুদকের যাচাই-বাছাই কমিটি অভিযোগগুলো প্রাথমিকভাবে যাচাই করে অনুসন্ধানের সুপারিশ করে কমিশনে প্রতিবেদন দেয়। কমিশন অভিযোগগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর মো. জাহিদ কালামকে প্রধান করে চার সদস্যের বিশেষ অনুসন্ধান টিম গঠন করা হয়।

দুদক আইন অনুযায়ী, গঠিত টিমটি অনুসন্ধান কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য প্রাথমিকভাবে ৪৫ দিন সময় পাবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনুসন্ধান শেষ করা সম্ভব না হলে কমিশনের কাছে আবেদন করে আরও ৩০ দিন সময় বাড়ানো যাবে। অর্থাৎ আইন অনুযায়ী, সর্বোচ্চ ৭৫ দিনের মধ্যে এ অনুসন্ধান কার্যক্রম শেষ করার বিধান রয়েছে।