শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬

দেশে ড্রোন উৎপাদন ও সংযোজন কারখানা স্থাপনে চীনের সঙ্গে চুক্তি


ড্রোন উৎপাদনে স্বনির্ভরতা অর্জনের পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলো বাংলাদেশের। অত্যাধুনিক আনম্যানড এরিয়াল ভেহিকল (ইউএভি) উৎপাদন ও সংযোজন কারখানা স্থাপন এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের লক্ষ্যে চীনের সঙ্গে সরকার থেকে সরকার (জি-টু-জি) চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ।

২৭ জানুয়ারী ২০২৬, ৯:২২ অপরাহ্ণ 

দেশে ড্রোন উৎপাদন ও সংযোজন কারখানা স্থাপনে চীনের সঙ্গে চুক্তি
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

ড্রোন উৎপাদন ও সংযোজন কারখানা স্থাপন এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের লক্ষ্যে বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের সরকার থেকে সরকার (জি-টু-জি) চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) ঢাকায় বাংলাদেশ বিমানবাহিনী সদর দপ্তরে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী ও চায়না ইলেকট্রনিক্স টেকনোলজি গ্রুপ করপোরেশন ইন্টারন্যাশনাল (সিইটিসি)-এর মধ্যে এ চুক্তি সই হয়।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। এছাড়া অনুষ্ঠানে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসানসহ সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ বিমানবাহিনী ও সিইটিসি ইন্টারন্যাশনাল যৌথভাবে দেশে একটি আধুনিক ইউএভি উৎপাদন ও সংযোজন সুবিধা স্থাপন করবে। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রযুক্তি হস্তান্তর, সক্ষমতা বৃদ্ধি, শিল্প দক্ষতা উন্নয়ন এবং যৌথ প্রযুক্তিগত সহযোগিতা নিশ্চিত করা হবে।

আইএসপিআর জানায়, প্রাথমিক পর্যায়ে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী মাঝারি উচ্চতায় দীর্ঘ সময় উড্ডয়নে সক্ষম (মিডিয়াম অল্টিটিউড লং অ্যান্ডিউরেন্স) ইউএভি এবং উল্লম্বভাবে উড্ডয়ন ও অবতরণে সক্ষম (ভার্টিক্যাল টেক-অফ অ্যান্ড ল্যান্ডিং) ইউএভি উৎপাদন ও সংযোজনের সক্ষমতা অর্জন করবে। এই ইউএভিগুলো সামরিক ব্যবহারের পাশাপাশি মানবিক সহায়তা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রমসহ বিভিন্ন অসামরিক কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

আইএসপিআর আরও জানায়, এই চুক্তির মাধ্যমে দেশীয় ইউএভি উৎপাদনে পূর্ণ স্বনির্ভরতা অর্জনের পথ সুগম হবে। পাশাপাশি বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ, জ্ঞান বিনিময় ও দক্ষ অ্যারোস্পেস কর্মশক্তি গড়ে তোলার মাধ্যমে জাতীয় প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে এই উদ্যোগ। ভবিষ্যতে জাতীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও ইউএভি সরবরাহের সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।