বুধবার, ১৪ জানুয়ারী, ২০২৬

ভেনেজুয়েলা অভিযান ঘিরে বিশ্বে ট্রাম্পের কড়া বার্তা, একের পর এক দেশকে হুঁশিয়ারি


ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ অভিযানে আটক করার পর বিশ্বজুড়ে কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়েছে ওয়াশিংটন। এই অভিযানের পর গ্রিনল্যান্ড, কিউবা, কলম্বিয়া, মেক্সিকো ও ইরানকে লক্ষ্য করে একের পর এক কঠোর বক্তব্য ও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা।

৫ জানুয়ারী ২০২৬, ৯:২২ অপরাহ্ণ 

ভেনেজুয়েলা অভিযান ঘিরে বিশ্বে ট্রাম্পের কড়া বার্তা, একের পর এক দেশকে হুঁশিয়ারি
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ অভিযানে আটক করার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে গ্রিনল্যান্ড, কিউবা, কলম্বিয়া, মেক্সিকো ও ইরানকে ঘিরে প্রকাশ্যে কড়া বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা।

ভেনেজুয়েলা অভিযান প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চায় তার আশপাশের দেশগুলো স্থিতিশীল ও অর্থনৈতিকভাবে সফল হোক এবং সেখানে তেল উৎপাদনে কোনো ধরনের বাধা না থাকুক। তিনি দাবি করেন, পশ্চিম গোলার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব আর কখনো প্রশ্নের মুখে পড়বে না।

গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে বলেন, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্রের এই অঞ্চল প্রয়োজন। তাঁর ভাষ্য, সেখানে রাশিয়া ও চীনের জাহাজের উপস্থিতি বাড়ছে এবং ডেনমার্ক একা এই পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবে না। তবে গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ইয়েন্স ফ্রেডেরিক নিলসেন এ বক্তব্যকে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য ও অসম্মানজনক বলে মন্তব্য করেন। গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্ক- উভয় দেশই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একীভূত হওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।

কলম্বিয়া প্রসঙ্গে ট্রাম্প দেশটির প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর বিরুদ্ধে মাদক পাচার ইস্যুতে কঠোর মন্তব্য করেন এবং ভবিষ্যতে সামরিক অভিযানের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেন। এর জবাবে পেত্রো জানান, তাঁর সরকার মাদকবিরোধী অভিযানে রেকর্ড পরিমাণ কোকেন জব্দ করেছে এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে। তবে জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, কলম্বিয়ায় কোকেন উৎপাদন বর্তমানে ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।

কিউবা নিয়ে ট্রাম্প বলেন, দেশটি এমনিতেই দুর্বল অবস্থায় রয়েছে, তাই সেখানে সামরিক হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই। তাঁর দাবি, ভেনেজুয়েলা থেকে তেল সরবরাহ বন্ধ হওয়ায় কিউবার অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা লেগেছে। তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কিউবা সরকারকে এখনও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বড় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেন। অন্যদিকে কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াস-কানেল ভেনেজুয়েলার সঙ্গে জোট অটুট রাখার ঘোষণা দেন।

মেক্সিকোর বিষয়ে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, দেশটি মাদক কার্টেল দমনে যথেষ্ট কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে। তিনি বলেন, মেক্সিকো সীমান্ত দিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদক যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করছে। এমনকি মেক্সিকোর প্রেসিডেন্টকে কার্টেল দমনে মার্কিন সেনা সহায়তার প্রস্তাব দেওয়ার কথাও জানান তিনি। তবে এ বিষয়ে মেক্সিকো সরকার এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

ইরান প্রসঙ্গে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে সহিংসতা চালানো হলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর জবাব দেবে। সাম্প্রতিক আন্দোলনে কয়েকজন নিহত হওয়ার খবরও উঠে এসেছে। একই সঙ্গে তিনি ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি পুনর্গঠনের চেষ্টা নিয়েও হুঁশিয়ারি দেন। জবাবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বলেন, ইরান কখনো শত্রুর কাছে মাথা নত করবে না।

বিশ্লেষকদের মতে, ভেনেজুয়েলা অভিযানের পর ট্রাম্প প্রশাসনের এই আক্রমণাত্মক কূটনৈতিক অবস্থান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিষয়টি জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।